Home গদ্য-পদ্য “বিজয়ী বাংলা”- জেসমীন আক্তার

“বিজয়ী বাংলা”- জেসমীন আক্তার

150
0
বিজয়ী বাংলা- জেসমীন আক্তার
লেখক- জেসমীন আক্তার

জেনেছি, নিজেদের বুক পেতে দিয়েছিল বাংলার দামাল ছেলেরা,
ঝাঁঝরা বুকের রক্তে রঞ্জিত করেছিল পথ।
কেড়ে নিতে দেয়নি মাতৃভাষা।

গর্জে উঠেছিল, বিনা অনুশীলনে
জীবন মায়া বাজি রেখেই ঝাঁপিয়ে পরেছিল যুদ্ধের ময়দানে,
বৃদ্ধ পিতার কর্ষিত ভূমিকে
রক্ষা করতে।
সেটা ও শুনেছি আমি।

সন্তান হারা মায়ের,স্বামী হারা বধুর আহাজারি ও নাকি বাতাসে ধ্বনিত হতে পারে নি,                           পাকিস্তানি হায়েনাদের ভয়ে?

সোমত্ত মেয়ের বাবার
কিংবা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া নববধূর স্বামীর আর্তনাদ ও নাকি বাড়ির প্রাচীর টপকে যেতে পারেনি।
ক্যাম্প ফেরতগামী সেই সকল নারীর ও নাকি নামকরণ হয়েছে
বীরাঙ্গনা!

বুদ্ধিজীবীদের পাঁজর ভেঙে, মাথার খুলি উড়িয়ে রক্তের নহর বইয়ে দিয়েছিল গঙ্গা জলে, দেশকে মেধা শূন্য করার জন্য, তাও শুনেছি।

স্তম্ভ ছুঁয়ে দেখেছি, শ্রদ্ধায় মাথা অবনত করেছি,দু’ফোটা অশ্রু জল ও ফেলেছি তাদের স্মরণে।
কংক্রিটের বারান্দায় হানাদারদের ঠুক ঠুক হেটে যাওয়ার শব্দে নাকি কুঁকড়ে যেত ঘরের বউ ঝিয়েরা, রুপকথার গল্পের মতো লেগেছিল শুনতে।

আমি দেখেছি,
পাঁচ বছর বয়সী বাচ্চা মেয়েটিকে মানুষ রূপী পরিনত হায়েনার হাতের খুবলে খাওয়া রক্তাক্ত দেহটি সবুজ ঘাসের উপর পরে থাকতে।
শিউরে উঠেছি।

স্বামীকে বেঁধে চোখের সামনে স্ত্রীকে নির্যাতন।
নাম হয়েছিল কি তাদের কোনো অঙ্গনা নামে?
পরিনতির অনিশ্চয়তায় কুঁকড়ে গিয়েছি।

আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে আসা, দাঁত কেলিয়ে বেড়ানো ধর্ষণকারীর
কি হানাদার বাহিনীর সাথে অমিল আছে? খুব জানতে ইচ্ছে করে।

যুদ্ধের ময়দানে হারানো সন্তানের মায়ের চিৎকার আমি শুনিনি,
বুয়েট ছাত্র আবরারের মায়ের আহাজারি আজও হৃদয়কে ক্ষত বিক্ষত করে।
কোন ভয়ে উচ্চশিক্ষিতরা অন্য দেশে পাড়ি জমায়,তাও ভাবি।

বিমর্ষ হয়ে পরি,
যখন জানি নামীদামী পোশাক পরিহিত মুখোশধারী লোকটির আসল পরিচয়।
মন ভেঙে আহত হই,লজ্জায় অবনত হই যখন দেখি
যুবা,বৃদ্ধ সবাই নিজ ক্ষমতা ভুলে চাটুকারিতায় মত্ত হয়।

পড়েছি,পড়িয়েছি গনতন্ত্র কি?
পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা বিশ্লেষণ করে বুঝিয়েছি।
মানে কিন্তু আমি নিজেই খুঁজে বেড়াচ্ছি।

কুমড়ো ফুলে ফুলে নুঁয়ে পরে লতাটা,
সজনে ডাটায় ভরে থাকে গাছটা।
এক ঋতুকে বিমর্ষ করে আরেক ঋতু আসে।

তারপর ও আমি স্বপ্ন দেখি,দেখতে ভালোবাসি,
লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে ভূমিষ্ঠ যে বাংলা, তারই কর্ষিত ভুমির সবুজ গালিচায় শুয়ে আমাদের দামাল ছেলেরা সদ্য ভোরের সূর্যের তেজ ধারণ করবে, যেমনটি করেছিল তাদের পূর্বপুরুষেরা।

অন্যায়ের সাথে বিরোধিতা করে
গনতন্ত্রের জোয়ার বইয়ে দেবে
আমাদের বিজয়ী বাংলায়।

“লেখক- জেসমীন আক্তার”