করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চার মাস পর বিধিনিষেধ গত ১১ আগস্ট থেকে শিথিল করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু শুরুর নির্দেশ দেওয়া হলেও কক্সবাজার সৈকত ও অন্যান্য পর্যটন স্পটে যেতে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছিল প্রশাসন। কিন্তু ১২ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে যে, ১৯ আগস্ট থেকে সব পর্যটন স্পট শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু শুক্রবার থেকেই ভ্রমণ ও সমুদ্রপ্রেমীরা সৈকত এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা না থাকার কথা বলে বিচকর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ডের কর্মীরা সৈকততীরে ভিড় করা নানা বয়সি মানুষকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিছু কিছু পয়েন্টে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সৈকতে নেমে পড়েন ভ্রমণপ্রেমীরা।
সৈকতে হাঁটতে আসা চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার রাসেল দুর্জয় দম্পতি বলেন, ‘অনেক দিন ঘর থেকে বের হতে পারিনি। বাচ্চাদের পাশাপাশি আমরাও হাঁপিয়ে উঠেছি। টিভিতে শুনলাম পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হচ্ছে। সেই খুশিতে শুক্রবার কক্সবাজার সৈকতে এসেছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন আমাদের নামতে দেয়নি। এত কাছে এসেও সাগরের ঢেউটা ছুঁতে পারিনি, এটা খুবই কষ্টের। তারা মাইকিং করে বলছে ১৯ আগস্টের পর আসতে। এত দিন তো আমাদের তর সইছে না।’
সৈকতে কাজ করা সি সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান বলেন, অনেকে প্রতিদিন সৈকতে এসে বালিয়াড়িতে নামতে চান। কিন্তু সরকারি নির্দেশনার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের ফিরিয়ে দিতে হয়। শুক্রবার কয়েক শ ভ্রমণপিপাসুকে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে কক্সবাজারে এসেছেন আমিনুল ইসলামসহ চার বন্ধু। তারা বলেন, ‘মনে করেছিলাম সৈকতে নামাও সম্ভব হবে। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন কঠোরতায় তা ঠেকিয়ে দিয়েছে। শুধু আমরা নই, আরো অগণিত নারী-পুরুষকেও একইভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে।’
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হোয়াইট অর্কিড হোটেলের জি এম রিয়াদ ইফতেখার বলেন, জেলা প্রশাসন বলে দিয়েছে, শুধু জীবন ও জীবিকার তাগিদে যারা কক্সবাজারে আসবেন, তাদেরই হোটেলে রাখা যাবে। স্থপনা যখন করা আছে, তা তো ফেলে চলে যেতে পারছে না কেউ। তাই পূর্বের মতো পর্যটনসেবা নিশ্চিত করতে হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা শুরু করেছেন সবাই। খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।
কক্সবাজার গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেলের অর্ধেক কক্ষ ভাড়া দিতে। যেহেতু মহামারির সময়, তাই সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত জরুরি। কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সম্ভাবনার পর্যটনশিল্প করোনার কারণে ধুঁকছে। গত বছরের মতো চলতি বছরও বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা। করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি সব ধরনের ব্যবসা সচল করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেভাবেই পর্যটনও সচল করা হচ্ছে।
সূত্রঃ ইত্তেফাক








