টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে স্পিডবোট ডুবি
banner

কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের মধ্যবর্তী নৌ-রুটে নাফ নদীর মোহনায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে ফেরার পথে নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে স্পিডবোটটি উল্টে গেলে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলেন- সেন্টমার্টিনের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মরিয়ম খাতুন (৩৫) এবং তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মাহিমা। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী স্পিডবোটটি নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই শক্তিশালী ঢেউয়ের কারণে উল্টে যায়। দ্রুত অন্য একটি স্পিডবোট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে, কিন্তু মা-মেয়ে দুজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নিহত মরিয়মের ভাই বশির আহমেদ জানান, ‌‘বোন আর ভাগনিকে নিয়ে স্পিডবোটে করে আমরা টেকনাফে ফিরছিলাম। ঢেউয়ের ধাক্কায় বোটটি উল্টে যায়। পরে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বোনের ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল, পথেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল।’

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসিফ আলভী জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মা-মেয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হওয়া আরও দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হাসান চৌধুরী ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্ঘটনায় দুজন মারা গেছেন। কীভাবে স্পিডবোটটি উল্টে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল করে আসছিল, যা এই দুর্ঘটনার পেছনে একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং স্পিডবোট পরিচালনার বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ সমকাল