Home আমার ঢাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বপ্নের মেট্রোরেল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বপ্নের মেট্রোরেল

419
0
প্রধানমন্ত্রী
ছবিঃ বিটিভি

স্বপ্ন পূরণের পথে আরো একধাপ অগ্রসর হলো বাংলাদেশ। দেড় কোটি নগরবাসীর ঢাকায় বড় আর্শিবাদ হয়ে এল মেট্রোরেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার (২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের প্রথম ধাপ এমআরটি-৬ লাইনের উদ্বোধন করলেন।

এদিন দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের পর রাজধানীর উত্তরার উত্তর অংশ থেকে মেট্রোরেলে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা। এদিন তার সঙ্গে যাত্রী ছিল প্রায় ২০০ জন। তাদের মধ্যে যেমন আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তেমনি আছেন প্রাথমিকের শিক্ষকও।

এই তালিকায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম মেট্রোরেলের প্রথম যাত্রার সূচনা অনুষ্ঠিত হয়।প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ২টার কিছু পর আগারগাঁও স্টেশনে পৌছাঁয় মেট্রোরেলটি।

এর আগে নিজ হাতে টাকা দিয়ে মেট্রোরেলের কার্ড নেন প্রধানমন্ত্রী। দেড়টায় মেট্রোরেল স্টেশনে বৃক্ষরোপন করেন তিনি।

আপাতত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ছুটবে মেট্রোরেল। আগামী বছর নাগাদ মতিঝিল স্পর্শ করবে মেট্রোর চাকা। মেট্রোরেলে উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণ ঢাকার এই সংযোগকে দেশের প্রথম বিশ্বমানের গণপরিবহনও বলা হচ্ছে। মেট্রোরেলের পুরো অপারেশন শুরু হলে প্রতি ঘন্টায় ৬০ হাজার মানুষ মেট্রোয় চেপে একপ্রাপ্ত থেকে অন্যপ্রাপ্ত যেতে পারবে। এতে রাস্তার গাড়ির জট কমে আসবে। মানুষের শ্রমঘণ্টার অপচয় বন্ধ হবে।

প্রধানমন্ত্রী

এই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের আগস্টে। আনুষ্ঠানিকভাবে মেট্রোরেলের কাজ শুরু হয়। এর আগে আরো কয়েক বছর ধরে প্রাকসমীক্ষা, সমীক্ষা আর অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করেছে। আজ ২৮ ডিসেম্বর সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে। এমআরটি-৬ নামের প্রথম মেট্রোরেল উত্তরা থেকে কমলাপুর ২১ দশমিক ৬ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের অকৃতিম বন্ধু জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোয়াপারেশন (জাইকা) এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা করেছে।

কাল থেকে চড়তে পারবেন সবাই : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মেট্রোরেল চালুর প্রথম দিন সাধারণের জন্য উন্মুক্ত না করে এক দিন পরে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে সবার জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। মেট্রোরেলের উদ্বোধনকে ঘিরে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পোশাকি বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকে ছিল গোয়েন্দারা। একই সঙ্গে আকাশে ছিল র‌্যাবের টহল। স্থানীয় জন সাধারণের জন্য আগে থেকে অবশ্যই পালনীয় বিশেষ নির্দেশা জারি করেছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। মেট্রোর উদ্বোধন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিচের সড়ক বন্ধ ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পুরোটা জুড়ে। কাল সকাল আটটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। ক্রমান্বয়ে দিনের চারঘন্টা থেকে মেট্রোতে চড়ার সময় বাড়ানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী
মেট্রোরেলের ই-টিকেট সংগ্রহ করছেন প্রধান মন্ত্রী

টিকিট পাবেন কোথায় কিভাবে : মেট্রো চড়তে গেলে অন্য পরিবহনের মতো একটি টিকিটের প্রয়োজন হবে। স্টেশনের দোতলায় উঠলেই সেই টিকিট পাওয়া যাবে। শুরুতে মেট্রোর উত্তরা ও আগারগাঁও স্টেশন থেকে টিকিট কাটা যাবে। এখানে যাত্রীদের মোট ভাড়া গুনতে হবে ৬০ টাকা। চাইলে যে কোন মেট্রোরে ভেন্ডিং স্টেশনে গিয়ে নিজেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। স্টেশনের বাইরেও এই টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। তবে মেট্রোর রোজ টিকিট কাটার ঝামেলা থেকে মুক্তিপেতে ১০ বছর মেয়াদি রিচার্জেবল কার্ড পাওয়া যাবে।

এই প্রথম চালু হলো ঢাকায় মানসম্মত গণপরিবহন : কেউ যদি বলেন ঢাকায় মানসম্মত গণপরিবহন নেই তাহলে কি ভুল বলা হবে! রাজধানীতে বেশিরভাগ মানুষ যে বাস সার্ভিস ব্যবহার করেন তা কি মানসম্মত? সাধারণ মানুষ মনে করে, অভিজাত এলাকা গুলশানে দুটি বিশেষ বাস সার্ভিস ছাড়া একটি বাস সার্ভিসও মানসম্মত নয়। শুরুতে হাতিরঝিলে রাজউকের কাছ থেকে ঠিকাদারি নিয়ে যে চক্রাকার বাস সার্ভিসের প্রচলন করা হয়েছিল তা কিছুটা মানসম্মত ছিল। কিন্তু এখন মানুষের চাপ এতটা বেড়েছে যা সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হচ্ছে। সেই হিসেবে বলা যায়, মেট্রোরেল হচ্ছে ঢাকার মানুষের প্রথম মানসম্মত গণপরিবহন। অন্তত কোনো শ্রেণি পেশার মানুষ মেট্রোতে উঠতে দ্বিধাবোধ করবেন না।

কমবে যানজট : এখন উত্তরা থেকে মতিঝিল আসতে কমপক্ষে দুই ঘন্টা সময় প্রয়োজন হয়। কোন দিন রাস্তায় যানজট বেশি হলে তিন সাড়ে তিন ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। রাস্তায় মানুষের কর্মঘন্টা যেমন নষ্ট হয় তেমনি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচে ব্যয় বাড়ে। কিন্তু মেট্রোরেল চালু হওয়াতে এখন উভয় ধরনের অপচয় কমবে। যদিও মেট্রোরেল বাস্তবিক অর্থে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কি প্রভাব ফেলছে তা বুঝতে আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় যারা নিত্যদিন চলাফেরা করেন তারা নিশ্চই খেয়াল করেছেন উত্তরা এবং মিরপুর থেকে মতিঝিল যেতে সাধারণত তিনটি রুট ব্যবহার করা হয় এরমধ্যে প্রথমটি বিমানবন্দর-কুড়িল বিশ্বরোড-রামপুরা-মৌচাক-কাকরাইল- নয়া পল্টন হয়ে শাপলা চত্বর, দ্বিতীয়টি বিমানবন্দর-বনানী-জাহাঙ্গিরগেট-ফার্মগেট-কাওরান বাজার-শাহবাগ, মৎস ভবন-প্রেকক্লাব-দৈনিক বাংলা হয়ে শাপলা চত্বর, তৃতীয়টি পল্লবী-মিরপুর ১০-শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, খামারবাড়ি, ফার্মগেট থেকে আবার শাহবাগ হয়ে মতিঝিল। আসা এবং যাওয়ার পথে প্রতি এক থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে একটি করে ক্রসিং সিগনালে দাঁড়াতে হয়। এসব সিগনালে ৫ থেকে ১৫ মিনিট কিম্বা তারো বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ঢাকার যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ এইসব ক্রসিং। মেট্রোরেলে এ ধরনের কোন ক্রসিং থাকছে না। ফলে টানা যাতায়াত সম্ভব হবে। ফলে তিন ঘন্টার পথ পাড়ি দেওয়া যাবে ৩০ মিনিটে।

মেট্রো পুরো চালু হলে রাস্তা হবে ফাঁকা : মেট্রোরেল পুরোদমে চালু হলে মিরপুর এবং উত্তরার মানুষের আর বাস ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে মেট্রোরেলে যাত্রার মান নিয়ে প্রশ্ন না থাকায় যারা ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করেন তাদেরও আর রোজ গাড়ি বের না করলেও চলবে। মেট্রোতে চড়েই অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যসব কাজ করা যাবে। ফলে এক বিপুল সংখ্যক মানুষ বেশিরভাগ সময় রাস্তার উপরের অংশে থাকবে। যেসব শহরে পাতাল রেল রয়েছে সেসব শহরে উপরে খুব বেশি মানুষ দেখা যায় না। আমাদের মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর একই ধরনের ঘটনা ঘটবে।

সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ