রাস্তায় ঘুরছে বিশালদেহী হাতি। পিঠে বসা মাহুত, সামনে একজন রাস্তায় হাতির সামনে দিয়ে হেটে নির্দেশনা দিচ্ছে। হঠাৎ একটি চলন্ত গাড়ী আটকে দিলো, ড্রাইভার টাকা দেওয়ার পর পথ ছেড়ে দিলো হাতি।
মাহুতের নির্দেশেই এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছে হাতিটি। তারপর শুঁড় সোজা এগিয়ে দিচ্ছে দোকানির কাছে। শুঁড়ের মাথায় টাকা গুঁজে না দেওয়া পর্যন্ত শুঁড় সরাচ্ছে না হাতিটি। শুধু দোকান নয় রাস্তায় গাড়ী আটকেও নিচ্ছে টাকা। ৫টাকা দিলে যা তা বলছে।
এভাবেই অভিনব কৌঁশলে বহুবছর যাবত হাতি দিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষোভ ।
সরেজমিনে দেখা যায় রজধানী ঢাকার উত্তরা কামার পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় হাতি দিয়ে টাকা তুলছেন মাহুতরা। সর্বনিন্ম ১০ টাকা থেকে শুরু করে দোকানের ধরণ অনুযায়ী একশ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে চাঁদা। শুধু দোকান নয় সড়কের উপর ভ্যান বিক্রেতারাও বাদ যাচ্ছে না।
গতকাল ১১জুন ২০২২ উত্তরা কামার পাড়ায় দেখা যায় এমনই চিত্র। মুদি দোকান, যানবাহন ও ভ্যান গাড়ীতে বিক্রী করা নিম্ন ব্যাবসায়ীও ছাড় পাচ্ছে না। দেখুন ভিডিও–
কামার পাড়া এলাকার একটি মুদি দোকানে হঠাৎ একটি হাতি এসে শুঁড় এগিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার ৩০ টাকা হাতিটির শুঁড়ে গুঁজে দিলেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই দোকানদার বলেন, ‘টাকা না দিলে যাবে না। তাছাড়া দেড়ি হলে অনেক সময় ভাঙচুর করে। এজন্য ঝামেলা হওয়ার আগেই টাকা দিয়ে দিলাম।’
হাতির মাহুত বলেন, ‘হাতির ভরনপোষণের জন্য সবাই খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়। কেউ খুশি হয়ে টাকা দিলে তা আবার চাঁদাবাজি হয় কিভাবে।’
একজন গাড়ী চালক জানান- রাস্তার মাঝখানে এসে হাতি দিয়ে রাস্তা আটকে দেয়, টাকা না দেয়া পর্যন্ত ছাড়েনা।
উত্তরা আশেপাশে বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতি নিয়ে এসে চাঁদা আদায় করা হয়। বিষয়টি দেখার কেউ নেই। প্রতিটি দোকান থেকে হাতি দিয়ে টাকা তোলা হয়। ৫টাকাকে টাকাই মনে করে না। ১০ টাকা বেশী না দেওয়া পর্যন্ত দোকান থেকে হাতি সরানো হয় না। অনেক সময় মহিলা ক্রেতারা হাতি দেখে ভয় পান। এতে ব্যবসায়ের ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল বলেন, ‘হাতির কারণে অনেক সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। দোকান থেকে চাঁদা উঠানো শেষ হলে হাতিগুলো রাস্তায় নামে। হাতিগুলো চলন্ত গাড়ি থামিয়ে দেয়। এতেই যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ দেখছে কিন্তু কিছু বলে না, পাশ দিয়ে হেটে চলে যায়’।
উত্তরা কামার পাড়া পুলিশ ফাড়ির কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজী হননি।
–নিজস্ব সংবাদদাতা










