রাজধানীর কলাবাগানে তেঁতুলতলা মাঠের পরিবর্তে বিকল্প জায়গায় থানা নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
‘আমরা বলেছি আলোচনা হোক। এ সময় কনস্ট্রাকশন কাজ বন্ধ থাকবে।’ কাজ বন্ধের বিষয়ে তিনি ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিবেশবাদীরা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বলেছি এখানে যে কাজটা হচ্ছে, আমরা চাচ্ছি দ্রুততম সময়ে তা বন্ধ করা হোক। ঈদের জামাত ওখানেই হোক, যেটা সব সময় হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি চেষ্টা করবেন। যেহেতু কিছু টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিকল্প জায়গা খোঁজা হবে।’
রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকে তেঁতুলতলা নামে একটি মাঠ রয়েছে। এই মাঠে কলাবাগান থানার স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করছেন।
মাঠটিতে স্থানীয় শিশুরা সেখানে খেলাধুলা করে। পাশাপাশি মাঠটিতে ঈদের নামাজ, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। রবিবার সকালে ওই মাঠে ইট-সুরকি ফেলা হলে সেখানে গিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন সৈয়দা রত্না। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তার ছেলে বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এলে তাকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুজনের আটকের খবর পেয়ে বেলা দুইটার দিকে ওই মাঠে যান মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ (বেলা) সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, উদীচীর ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আরিফ নূরসহ কয়েকজন। পরে রাতে মা–ছেলের মুক্তির দাবিতে কলাবাগান থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দা, মানবাধিকারকর্মী ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর নেতা–কর্মীরা। সৈয়দা রত্না উদীচীর সদস্য।
বিক্ষোভের মুখে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মা–ছেলেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। সৈয়দা রত্নার ছেলে আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
সূত্রঃ ইত্তেফাক







