Home গদ্য-পদ্য জেসমীন আক্তার’র “সুখ”

জেসমীন আক্তার’র “সুখ”

159
0
জেসমীন আক্তার’র “সুখ”
যত্ন করে সুখ স্মৃতি টুকু
শিকেয় তুলে রাখি,
মেলে ধরা শীতল পাটিতে
জীবন নকশা আঁকি।
বুনন ফোঁড়ে কষ্ট মিলে
আকাশ, সাগরের নীলে,
উদাসী মেঘ গর্জে কয়
আমারে আঁকলে কি বা হয়?
কাকচক্ষু দীঘির জল
কলসি ভরা কষ্টের ছল।
রঙিন সুতোর কারু কাজে
কষ্টেরা সব মাতাল হাসে।
সুখের ফোঁড়ে বসাই তারা
খুঁজিতে গিয়ে আমি দিশেহারা।
লাঙ্গল দাগানো হলুদ মাঠে
শুভ্র,সোনালী ফসল হাসে,
সবুজ রঙা মাচানটিতে
লাউয়েরডগা মাথা তুলে।
কি সুখ!আহা! কি সুখ!
ঘোমটা মাথায় কিষাণী বধু
বলে যায় সলাজে,
কর্ষে মাটি,বর্ষে পানি
ফসল ফলানোর কাজে।
ফের ছুটে যাই মধু বনে
কই কথা ফুলের সনে,
হলুদ, লাল,নীল, বেগুনি
সুবাস যে তার মন মাতানি।
কি সুখ! আহা!কি সুখ!
গুনগুনিয়ে ভ্রমর আসে
প্রজাপতি ও তারই সাথে,
গুঞ্জনেরই বার্তা শোনায়
কুঞ্জবন যে ওদের মানায়।
দ্বারেদ্বারে ঘুড়ি ফিরি
আপন কিংবা পড়শী বাড়ি,
বন্ধু নয়তো প্রিয়জন
চারদিকে কত আয়োজন।
কি সুখ! আহা!কি সুখ!
একমুঠ সময় নেইকো কারো
ভরসার থলে খালি আরো,
মোহ মায়া শব্দ খেলায়
ফুরোচ্ছে দিন অবেলায়।
ক্লান্ত আমি গভীর রাতে
শাপলা বিলে শালুক পানে,
মেলে ধরা পাপড়ি গুলোয়
হতাশ মন যে জুরোয়।
কি সুখ!আহা!কি সুখ!
বাঁধ ভেঙে কয় চাঁদের হাসি
শালুক কি হয় তোমার সাথী?
জ্যোৎস্না ঢেলে ভেঙেছি লাজ
রাত জাগা বাসর হবে আজ।
রাতের বুকে ভোর নামে
সাগর সূর্যের আলিঙ্গনে,
সুখ যে সোনার হরিণ
সবখানে হয়েছে বিলীন।
স্মৃতি সুখের ঢাকনা তুলে
কত অনুভূতির দেখা মিলে।
শৈশব, কৈশোর, নবযৌবন
চোখবুঁজে ভাবি নিরঞ্জন।
জীবন নকশার সুখের ভাঁজে
ফোঁড়ে ফোঁড়ে তাই যে হাসে।
কি সুখ! আহা! কি সুখ!
লেখক- জেসমীন আক্তার