রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগের সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি।
সমাবেশ থেকে আগামী দিনের আন্দোলনের ১০ দফা ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
তিনি তাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে এই ১০ দফা ঘোষণা করারও আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ঢাকাবাসীসহ সাধারণ জনগণকে সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
দলের মহাসচিবসহ দুই শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তার ও ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশস্থল নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।
এর মধ্যে দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে যান বিএনপির অপর দুই নেতা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তারা ডিএমপি কার্যালয় থেকে বের হয়ে জানান, রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে তাদের ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।ড. মোশাররফ বলেন, ‘গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ শুরু হবে বেলা ১১টায়।’
তবে দলের মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে সমাবেশে কে প্রধান অতিথি থাকবেন সে বিষয়ে জানান, সমাবেশের দিন ব্যানারেই দেখতে পাওয়া যাবে প্রধান অতিথির নাম।
তবে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, দলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনই প্রধান অতিথি থাকবেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে বিএনপি মহাসচিবের চলতি দায়িত্ব কাউকে এখনও দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মির্জা ফখরুল আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, সেই সময়ও মহাসচিবের দায়িত্ব অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি।’
এ ব্যাপারে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সমাবেশের আগে মহাসচিব মুক্তি পেয়ে গেলে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।’
এর আগে এদিন বেলা ১১টা থেকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয়। এর পরই বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে, পরে তাদের বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।বিকালে তাদের নেওয়া হয় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে।
ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘বুধবার রাতে বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর থেকে ককটেল ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আগামীকাল বিএনপির সমাবেশ। এই সমাবেশকে সামনে রেখে কোনো নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কি না জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আসা হয়।’
এরও আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিএনপির প্রতিনিধি দল ডিএমপি সদর দপ্তরে যান। সেখানে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন তারা।
বৈঠকে ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ করার জন্য রাজধানীর কমলাপুর স্টেডিয়াম মাঠের জন্য অনুমতি চায় বিএনপি। তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে বিএনপিকে মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজ মাঠে গণসমাবেশ করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়।
রাত সাড়ে ৯টায় ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু।
আজ ডিবিপ্রধান বলেন, ‘বিএনপির কমলাপুর স্টেডিয়ামের প্রস্তাবটা আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে এখন ক্রিকেট খেলা চলছে। সেখানে নিচে অনেক সিনথেটিক জিনিসপত্র রয়েছে। এ অবস্থায় সমাবেশ করলে মাঠটি নষ্ট হয়ে যাবে। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে তারা সমাবেশ করবে মিরপুর বাঙলা কলেজে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে আরও একটি মাঠের প্রস্তাব এসেছে। সেটা হলো গোলাপবাগ মাঠ।’ পরে গোলাপবাগ মাঠটিকেই বিএনপির সমাবেশের জন্য দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় গণসমাবেশের স্থান নিয়ে কয়েক দিন ধরে পুলিশ ও বিএনপির আলোচনার মধ্যে গত বুধবার বিকালে নয়াপল্টনে সংঘর্ষ হয়। সেখানে নিহত হন মকবুল নামে বিএনপির এক কর্মী। আহত হন অন্তত ২০ জন।
এ ঘটনার পর গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় ৪০০ নেতাকর্মীকে। তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেই তালা খুলে দেওয়া হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর। শুক্রবার সকালে আবার বিএনপি কার্যালয়ে ঝুলেছে তালা, যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে সামনের সড়কে।
সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ










