বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন থানায় করা মামলায় শুনানি শেষে শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) এ আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (এসআই) শাহ আলম।
শুক্রবার আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহম্মেদ তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী তাদের জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন বিকালে তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ডিবির পুলিশ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন অনেকে। পরে বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালানো হলে সেখানে অনেক ককটেল পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
এ ঘটনায় পল্টন থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৪৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয় অজ্ঞাত দেড় থেকে দুই হাজার বিএনপির নেতাকর্মীকে।
জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়ায় তারা দলটির শনিবারের সমাবেশে যোগ দিতে পারবেন না। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় ওই দিন বিশেষ আদালত বসিয়ে তাদের জামিনেরও কোনো সুযোগ নেই।
শুক্রবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এমন তথ্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু।
তিনি বলেছেন, ‘নতুন করে গ্রেপ্তার কোনো আসামি হলে ছুটির দিনেও বিশেষ আদালত বসানো যায়। তবে জামিন নাকচ হয়ে কারাগারে আটক আসামির ক্ষেত্রে ছুটির দিনে বিশেষ আদালত বসানোর নিয়ম নেই। বিশেষ আদালতে জামিন আবেদনের জন্য ফখরুল ও আব্বাসকে অন্তত রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
এদিকে বিএনপির দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপিপন্থি কয়েকশ আইনজীবী। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদালত চত্বরে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ







