নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা দিতে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তিনি রাজধানীর বেইলি রোডে (মতান্তরে সার্কিট হাউস রোড) নাহিদ ইসলামের বাসভবনে পৌঁছান।
সাক্ষাতের মুহূর্ত ও অভ্যর্থনা
তারেক রহমান বাসভবনে পৌঁছালে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন:
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপি মহাসচিব)
- নজরুল ইসলাম খান (স্থায়ী কমিটির সদস্য)
- হাবিবুর নবী খান সোহেল (যুগ্ম মহাসচিব)
এনসিপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
- আখতার হোসেন (সদস্য সচিব)
- সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক)
বৈঠকের বিষয়বস্তু: প্রতিহিংসা নয়, সহাবস্থান
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের রেশ কাটিয়ে একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই ছিল এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য। তারেক রহমান নাহিদ ইসলামকে নির্বাচনে তাঁর সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান। বৈঠকে আলোচনার মূল পয়েন্টগুলো ছিল: ১. রাজনৈতিক সহাবস্থান: বিজয়ী ও বিরোধী শক্তির মধ্যে যেন কোনো প্রতিহিংসামূলক সম্পর্ক না থাকে। ২. জাতীয় ঐক্য: দেশ পুনর্গঠনে সব গণতান্ত্রিক শক্তির একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা। ৩. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে প্রাথমিক মতবিনিময়।
নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। নির্বাচনে জয়ী ও বিরোধী দল হিসেবে আমাদের মধ্যকার সম্পর্কের একটি ইতিবাচক সূচনা হলো। অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সামনে আরও আলোচনা হবে।”
রাজনৈতিক গুরুত্ব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলম যখন বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে তারেক রহমানের এই সফর বড় ধরণের রাজনৈতিক ‘আইসব্রেকার’ হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রমাণ করে যে, বিএনপি ভবিষ্যতে এনসিপি এবং ছাত্র-জনতার প্রতিনিধি শক্তিগুলোকে সাথে নিয়ে দেশ চালাতে আগ্রহী।










