Home বাংলাদেশ একুশে পদক ২০২৬ প্রদান: “শিল্প-সংস্কৃতির রাজনীতিকীকরণ সভ্য দেশের পরিচয় নয়” — প্রধানমন্ত্রী...

একুশে পদক ২০২৬ প্রদান: “শিল্প-সংস্কৃতির রাজনীতিকীকরণ সভ্য দেশের পরিচয় নয়” — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

80
0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই একটি সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় দেশকে এগিয়ে নিতে একটি উদার গণতান্ত্রিক ও নৈতিক মানসম্পন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

একুশে পদক ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট গুণীজনদের হাতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পদক বিতরণ শেষে দেওয়া ভাষণে তিনি জাতীয় জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

রাজনীতিকীকরণমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা ও গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন:

“শিক্ষা গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্যের চর্চাকে আরও বেগবান করতে রাষ্ট্র এবং সরকার তার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করবে। তবে এসব সৃজনশীল ক্ষেত্রকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য দেশের পরিচয় হতে পারে না।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে মেধা ও সৃজনশীলতা কোনো রাজনৈতিক বলয়ে বন্দি থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একুশে পদকের ইতিহাস ও তাৎপর্য

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেছিলেন। এটি কেবল একটি পদক নয়; বরং ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী এবং বিজ্ঞজনদের অবদানের সাথে সাধারণ মানুষের সেতুবন্ধন তৈরির একটি মাধ্যম।”

একুশে ফেব্রুয়ারি: আত্মপরিচয়ের স্মারক

একুশে ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় চেতনার প্রাণপ্রবাহ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন:

  • এটি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক।
  • এটি জালেমের বিরুদ্ধে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নাম।
  • ফেব্রুয়ারি মানেই আমাদের শেকড় সন্ধানী এবং আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস।

প্রধানমন্ত্রী পরিশেষে বলেন, জ্ঞানী-গুণীদের কর্মময় জীবনকে জনগণের সামনে তুলে ধরা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গুণীজনদের সম্মান জানানোর মাধ্যমেই একটি জাতি প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধ হতে পারে।