পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট বাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও চাকলাহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে এই তালা খোলা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে
ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধান এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আনিসুজ্জামান স্বপন।
ভিডিওতে কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, “বিএনপি সারা বাংলাদেশে সরকার গঠনের পথে। এই মুহূর্তে আবু দাউদ প্রধান আমাদের চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তালামুক্ত ও অবমুক্ত করেছেন। যারা এই দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল, যারা বাড়ির অফিসে হামলা করে বন্ধ করে রেখেছিল, সেই অফিস আজ তিনি অবমুক্ত করলেন। আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।”
বিএনপি নেতার ব্যাখ্যা
বিতর্কের মুখে আবু দাউদ প্রধান দাবি করেছেন, তিনি এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ অফিসে তালা দিয়ে রাখার কারণে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জামায়াতের লোকজন তালা লাগিয়ে দিয়েছিল, তারাই আবার খুলে দিয়েছে। এখানে কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নেই, এটি মূলত এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এই ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে।
নেটিজেন ও স্থানীয়দের সমালোচনা
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাবেক ছাত্রদল ও জাসাস নেতা ইউনুস শেখ ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, “পঞ্চগড় সদর থানার সভাপতিকে কে দায়িত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার জন্য, আমার বোধগম্য হলো না।” সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পক্ষের কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন—৫ আগস্টের শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতায় কীভাবে নিষিদ্ধ একটি দলকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে আইনিভাবে বিতর্কিত ও জনমনে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত। এমন অবস্থায় বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতার এই ভূমিকা কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশনার পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জামায়াত ও নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।







