Home নির্বাচন ২০২৬ সারা দেশে ‘যুদ্ধাবস্থা’, কারচুপি করে বিএনপিকে জেতানো হয়েছে: আসিফ মাহমুদ

সারা দেশে ‘যুদ্ধাবস্থা’, কারচুপি করে বিএনপিকে জেতানো হয়েছে: আসিফ মাহমুদ

124
0
ফলাফল কারচুপি ও দেশজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পরবর্তী সময়ে বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের ওপর নজিরবিহীন হামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন, কয়েকটি আসনে এনসিপি প্রার্থীদের জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এই দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।

‘মনে হচ্ছে দেশে যুদ্ধাবস্থা চলছে’

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সারা দেশে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে। বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে দেশে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশে অত্যন্ত দুঃখজনক।”

ভোট পুনর্গণনার আবেদন: তিনটি আসনে কারচুপির অভিযোগ

এনসিপি মুখপাত্র অভিযোগ করেন যে, ঢাকা-৮, পঞ্চগড়-১ ও দিনাজপুর-৫ আসনে এনসিপি প্রার্থীরা শুরু থেকেই এগিয়ে থাকলেও গভীর রাতে ‘কাটাকাটি’ ও গড়িমসির মাধ্যমে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে।

  • ঢাকা-৮: এখানে এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এগিয়ে থাকলেও গভীর রাতে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
  • ঢাকা-১৩, ১৫ ও ১৭: এই আসনগুলোতেও ফল ঘোষণায় ব্যাপক ‘অসংগতি’ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। ইতোমধ্যেই এই আসনগুলোতে ভোট পুনর্গণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ।

বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ পাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, “সারা দেশে বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাইয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে গণনায় কারচুপি করা হয়েছে। প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা অনেক জায়গায় এগিয়ে থাকলেও রাত বাড়ার সাথে সাথে হঠাৎ ফলাফলে ‘ট্রানজিশন’ দেখা যায়।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ফলাফল প্রকাশে এত দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ এবং কেন্দ্র ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা ঘটল।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নই প্রধান শর্ত

গণভোট প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এই গণরায়ের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ছাড়া নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া উচিত নয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে পুরনো ব্যবস্থায় সংসদ চালানো সম্ভব হবে না।”