নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এনসিপির পক্ষে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন সনদে স্বাক্ষর করেন।
প্রধান উপদেষ্টার কৃতজ্ঞতা ও নতুন দিকনির্দেশনা
স্বাক্ষর গ্রহণ শেষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এনসিপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করবে বলেই জাতির বিশ্বাস ছিল। আজ সেই বিশ্বাস পূর্ণতা পেল এবং জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই দলিল যেন নতুন বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি পদক্ষেপে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। মঙ্গলবার নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে, যা আমাদের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।”
‘হাদি আমাদের বুকেই থাকবে, কেউ সরাতে পারবে না’: জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা
নোট অব ডিসেন্ট ও এনসিপির অবস্থান
স্বাক্ষর শেষে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, আইনি ভিত্তি ও কিছু কৌশলগত কারণে এতদিন স্বাক্ষর করা না হলেও তারা এই সনদ বাস্তবায়নে শুরু থেকেই তৎপর ছিলেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার শপথ নেবেন। জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, তারা কিছু শর্ত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রেখেই এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেন:
- গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ায় এনসিপি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে শামিল হয়েছে।
- তাদের দাবি অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ আগে শপথ নেবে এবং এরপর সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, সদস্য বদিউল আলম মজুমদার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এনসিপির প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন মনিরা শারমিন, সারওয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন ও জহিরুল ইসলাম।
নিউজ ডেস্ক







