ইসলামিক ফাউন্ডেশন কোরআন দুর্নীতি

স্টার নিউজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে পবিত্র কোরআন ও ধর্মীয় বই মুদ্রণ-ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজস্ব আধুনিক প্রেস থাকা সত্ত্বেও বিধি ভেঙে একাধিক বেসরকারি প্রেস থেকে কোরআন ছাপানো হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকা পাচনের অভিযোগ রয়েছে।

মূল অভিযোগসমূহ

স্টার নিউজের তথ্যমতে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাইরের প্রেস থেকে ২৩ লাখ ৩১ হাজার কপি কোরআন কিনেছে। নিম্নমানের কাগজে কম দামে কেনা এই কোরআনগুলোর মাধ্যমে সাড়ে ১২ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কার্যাদেশ ছাড়াই বাইরের প্রেস থেকে কোরআন ও বই কেনার নজির মিলেছে।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সহজ কোরআন শিক্ষা, কায়দা, দ্বীনি শিক্ষাসহ প্রায় ১.৫ কোটি কপি বই বাইরের প্রেস থেকে ছাপানো হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২১ কোটি টাকা পাচনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন- ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল: অন্যায্য বিলে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ

মেশিন ক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ

স্টার নিউজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রেসের জন্য স্ক্যানার, প্রিন্টার ও OMR মেশিন ক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে উচ্চমূল্যে মেশিন কেনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ফার্মগুলো পরস্পর সম্পর্কিত বলে দাবি করা হয়েছে।

পুরো ভিডিও প্রতিবেদন

অডিট আপত্তির বিশাল অঙ্ক

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ৩৬৪ কোটি টাকা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মোট অডিট আপত্তির পরিমাণ ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি।

প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া

স্টার নিউজের প্রতিবেদনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীলরা দুর্নীতির খবরকে নিন্দনীয় ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তারা তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার কথা বলেছেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানালেও অনুসন্ধানী দলের দাবি, ফাউন্ডেশনের অসহযোগিতার কারণে তদন্ত পুরোপুরি অগ্রসর হয়নি।

প্রাসঙ্গিক ব্যাকগ্রাউন্ড

স্টার নিউজের প্রতিবেদনে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের শিক্ষকদের মাসিক ৬,০০০ টাকা বেতন এবং প্রকল্পের বিস্তারিত পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে।

এই প্রকল্পের অধীনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে যে কোরআন ও বই তুলে দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর ক্রয়-মুদ্রণকেই কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ নোট

এই প্রতিবেদনটি স্টার নিউজের অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যগুলো সরকারি নথি, অডিট রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।