বিএনপি-জামায়াত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি | ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণা ও সভা নিয়ে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা আগে থেকেই ছিল। আহত উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা চালাচ্ছে শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে চৌধুরী বাজারে পৌঁছালে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

অন্যদিকে, জামায়াত ও শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম সানি দাবি করেন, তারা জোটের জনসভা শেষে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

আহতদের তালিকা

সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন:

  • বিএনপি পক্ষ: সোলায়মান চৌধুরী, মিজান খান, আমেনা বেগম, নাজমা, নার্গিস, মীর আহমেদ মীরু, আব্দুল হক খান ও মনির চৌধুরী।
  • জামায়াত-শিবির পক্ষ: রিফাতুল ইসলাম সানি, রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল এবং মিলন।

আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা

ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন জানান:

“খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।