কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ বেনাপোল

ভারতে কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব হওয়ায় বেনাপোল স্থলবন্দরে স্বজনদের আকুল অপেক্ষা বাড়ছে।

আইনি ও প্রশাসনিক ছাড়পত্রের জটিলতায় শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরের মধ্যে মরদেহ পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা এখনও দেশে এসে পৌঁছায়নি।

গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মোট ৯ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ৭ জনই ছিলেন বাংলাদেশি।

আরো পড়ুন- কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুনে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

মরদেহ গ্রহণের অপেক্ষায় বেনাপোল সীমান্ত

বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে মারা যাওয়া যাদের মরদেহ দেশে আনার কথা রয়েছে:

  • দেবাশীষ দত্ত: সাংবাদিক (কুষ্টিয়া)
  • আফসানা শারমীন: দেবাশীষ দত্তের স্ত্রী
  • স্বর্ণাশীষ দত্ত: দেবাশীষের ৩ বছর বয়সী পুত্রসন্তান
  • আকরাম আলী: দেবাশীষের শ্বশুর
  • জোবায়ের বাবু: ব্যবসায়ী (সাভার)

সাভারের ব্যবসায়ী জোবায়ের বাবুর বড় ভাই মোহাম্মাদ আলী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর মরদেহ দেশে আসার কথা থাকলেও ছাড়পত্র জটিলতায় তা হয়নি। শনিবার ভোরে এবং পরবর্তীতে দুপুরের দিকে মরদেহ পাওয়ার কথা বলা হলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগছে।

প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও দাফন-সৎকারের পরিকল্পনা

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, সীমান্ত দিয়ে মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে সকল প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে। তবে মরদেহবাহী গাড়ি কলকাতায় ছাড়পত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ঠিক কখন বেনাপোলে পৌঁছাবে, তার নির্দিষ্ট সময় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে দেবাশীষের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্র স্বর্ণশীষের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি শরিয়াহ মেনে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, একই আগুনে নিহত সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হচ্ছে এবং রেবতী সরকার নামের অপর এক বাংলাদেশির মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় ভারতেই সৎকার করা হবে।