রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
তবে বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন বাসের ৩৭ জন যাত্রী। ফেরিতে ওঠার আগেই যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যাওয়ায় এই যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয়নি。 দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা চালক ও তাঁর সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাম ভেঙে সরাসরি পদ্মায়!
এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক বারেক শেখ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে ৩৭ জন যাত্রী এবং চালক-সহকারীসহ মোট ৪০ জনের মতো আরোহী ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি ৭ নম্বর ঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামে একটি বড় ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল।
ঠিক তখনই বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর পকেটে থাকা আরেকটি মাঝারি আকারের ফেরির র্যামে সজোরে আঘাত করে। এতে ফেরির র্যাম ভেঙে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। বাসের যাত্রীরা আগেই ঘাটে নেমে যাওয়ায় তাঁরা নিরাপদ ছিলেন, তবে বাসের ভেতরে আটকে পড়া চালক ও তাঁর সহকারীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে।
যাত্রীর চোখে চোখের পলকে দুর্ঘটনা
বাসের যাত্রী আল জুবায়ের জানান,
“সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর আমাদের (বাসের সব যাত্রী) নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর চালক ও সহকারী বাসটি নিয়ে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই চোখের পলকে বাসটি হঠাৎ ডান দিকে বেঁকে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়।”
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পরপরই বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি, তদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জেগে উঠেছে ২৫ মার্চের সেই ‘রক্তাক্ত’ স্মৃতি
দৌলতদিয়া ঘাটে বারবার এমন দুর্ঘটনা ফেরিঘাটের পন্টুন ও পকেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এর আগে গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে উঠতে গিয়ে একইভাবে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। সেই স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছিলেন। আজকের ঘটনায় যাত্রীরা আগে নেমে না গেলে আবারও ২৫ মার্চের মতো রক্তাক্ত লাশের মিছিল দেখতে হতো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।










