রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। শনিবার (৩০ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর হাসপাতালের ভেতরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা অভিযানে একটি ‘অবৈধ বেকারি’র সন্ধান পাওয়ার পরপরই সংবাদমাধ্যমের ওপর এই চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটলো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি আড়াল করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবকটি প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় এবং প্রধান ফটকের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় কর্মীরা।
পুলিশ ও র্যাবের সামনেই মারমুখী আচরণ
বিকেলে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য ও ফুটেজ সংগ্রহের জন্য ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁদের প্রথমে তীব্র বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই হাসপাতালের কিছু উগ্র নিরাপত্তাকর্মী সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম মারমুখী আচরণ করেন এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দিয়ে ক্যামেরা ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। পরে হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার ঘটনাস্থলে এলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
হাসপাতালের ভেতর নোংরা বেকারি, তদন্তে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের অনিয়ম ফাঁসের ভয়। এর আগে বিকেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালের বহুতল ভবনের ভেতরে গোপনে একটি বেকারি পরিচালনার খবরে সেখানে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে হাসপাতালের এই ভয়াবহ অনিয়ম তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,
“হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর ভবনের ভেতরে একটি বেকারি পাওয়া গেছে, যেখানে দুটি ইলেকট্রিক ওভেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রুটি-বিস্কুট তৈরি হচ্ছিল। কোনো অনুমোদিত ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াই এটি চলছিল, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে প্রচুর ময়লা-আবর্জনাও পাওয়া গেছে। মেডিকেল কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য ওই বেকারিতে খাবার প্রস্তুত করা হতো। সেখান থেকে কোনো ধরনের ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়েছিল কি না, সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখছি।”
৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড়
উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই গণমৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৩ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাসপাতালের ভেতরে অবৈধ কারখানার সন্ধান ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আদ-দ্বীন হাসপাতালটি অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন’-এর মালিকানাধীন, যার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সেখ আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে সেখ মহিউদ্দিন।










