মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এখন কোটি টাকার প্রশ্ন—যিনি হুঙ্কার দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে মরিয়া? কেন তিনি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাত শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিলেন?
সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, পর্দার আড়ালে এক অজানা ‘ভয়’ কাজ করছে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মনে।
ইরানের এমন ৫টি গোপন শক্তি যা বদলে দিয়েছে যুদ্ধের সমীকরণ:
১. ‘নিউক্লিয়ার হেজিমনি’: বোমা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র!
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন আর কেবল পরমাণু বোমা বানানোর দৌড়ে নেই, তারা পৌঁছে গেছে ‘নিউক্লিয়ার হেজিমনি’ বা পারমাণবিক আধিপত্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে। IAEA-র সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ইরানের হাতে বর্তমানে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুদ আছে, তা দিয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৩টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
২. পাহাড়ের নিচে ‘রেডি টু কুক’ বোমা!
ইরানের আসল ট্রাম্পকার্ড লুকিয়ে আছে তাদের দুর্ভেদ্য পাহাড়ের গভীরে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, সেখানে বোমার প্রতিটি অংশ—ফিসাইল কোর থেকে ইলেকট্রনিক ডেটোনেটর—সবই ‘রেডি টু কুক’ বা রান্নার জন্য প্রস্তুত মসলার মতো সাজানো আছে। তারা উত্তর কোরিয়ার মতো ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না, বরং খেলছে ‘নিউক্লিয়ার এম্বিগুইটি’ বা অস্পষ্টতার চাল। অর্থাৎ, বিশ্ব জানবে না তাদের হাতে বোমা আছে, কিন্তু অনুভব করবে তার অস্তিত্ব!
৩. হাইপারসোনিক মিসাইল ও রাশিয়ার ‘মরণাস্ত্র’ প্রযুক্তি
ইরানের ‘ফাতাহ’ হাইপারসোনিক বা ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো কেবল সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র নয়। এগুলোর নিখুঁত নকশা বলে দেয়, এগুলো তৈরিই করা হয়েছে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধের বিনিময়ে পুতিনের কাছ থেকে এমন কিছু ‘স্পর্শকাতর’ প্রযুক্তি ইরান পেয়েছে, যা আমেরিকার সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখাতে সক্ষম।
৪. তেলের বাজারে ‘ইকোনমিক কোলাপস’-এর ভয়
ইরান জানে, হোয়াইট হাউসের চাবিকাঠি তেলের বাজারে। যদি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তবে আমেরিকা ও ইউরোপের অর্থনীতি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। সাধারণ মানুষই তখন রাজপথে নেমে ট্রাম্প সরকারকে যুদ্ধ থামানোর আল্টিমেটাম দেবে। এই অর্থনৈতিক ধসের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ঝানু ব্যবসায়ী ট্রাম্প।
৫. আঙুল যখন ‘পরমাণু বোতামের’ ওপর!
ট্রাম্প কিংবা নেতানিয়াহু কেন বারবার বড় আক্রমণ থেকে পিছিয়ে আসছেন? কারণ তারা জানেন, ইরানের পাহাড়ের গভীর আস্তানাগুলোতে এমন কিছু আছে যা মুহূর্তেই তেল আবিবকে ছাই করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ইরানের আঙুল এখন সবসময় ‘পারমাণবিক বোতামের’ ঠিক পাশেই থাকে—এই রুঢ় সত্যটিই এখন পশ্চিমের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
উপসংহার: ইরান এখন আর কেবল কোনো বিদ্রোহী রাষ্ট্র নয়, তারা একটি আধুনিক পারমাণবিক শক্তির অঘোষিত নিয়ন্ত্রক। বিশ্লেষকদের মতে, কেবল নিষেধাজ্ঞা বা নেতাদের টার্গেট করে ইরানকে থামানোর দিন শেষ। তেহরান এখন এমন এক বাঘ, যাকে খাঁচায় বন্দি করা মানেই মহাপ্রলয়কে আমন্ত্রণ জানানো।
তথ্যসূত্র: দ্য প্রেস (The Press) ইউটিউব চ্যানেল।










