দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এবং পাম্পগুলোতে চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় সারা দেশে পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত রবিবার (২২ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক জরুরি বার্তায় এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
চাহিদার তুলনায় নগণ্য সরবরাহ
সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। তেল কোম্পানিগুলো থেকে দৈনিক যে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা পাম্প কর্মচারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
‘লুটতরাজ’ ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ
পাম্প মালিকরা অভিযোগ করেছেন, এক শ্রেণির মানুষ দিনে একাধিকবার তেল নিয়ে বাইরে চড়া দামে বিক্রি করছে। এমনকি অনেকে ট্যাংকে তেল থাকা সত্ত্বেও বারবার লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এতে প্রকৃত গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন না। ঈদের আগের দিনের একটি উদাহরণ টেনে তারা জানান, ১০ হাজার লিটারের বেশি মজুত থাকা সত্ত্বেও বিশৃঙ্খলার কারণে তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, যাকে তারা ‘এক ধরনের লুটতরাজ’ বলে অভিহিত করেছেন।
মব সৃষ্টি ও জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চক্র পাম্পে এসে ‘মব’ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক তেল নিয়ে যাচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, সেখানে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে জ্বালানি লুট করা হয়েছে। এমনকি জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রাখা ২০০ লিটার অকটেনও জোর করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আল্টিমেটাম: নিরাপত্তা না দিলে সরবরাহ বন্ধ
অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকার ও জেলা প্রশাসন জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টি কার্যত উপেক্ষা করছে। ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও ট্যাংকারগুলো লুটের ঝুঁকিতে রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে:
“পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ (লিফটিং) বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।”
দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে পাম্প মালিকরা ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।










