রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন কলেজ গেট এলাকার “ডক্টরস কেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ চিকিৎসার নামে চলছে প্রকাশ্য দিবালোকে ভয়ংকর জালিয়াতি। যমুনা টিভির এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেখানে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই হাসপাতালের মালিক ও কর্মচারীরা অপারেশন থিয়েটারে (OT) সার্জন সেজে রোগীদের অস্ত্রোপচার করছেন।
অষ্টম শ্রেণি পাস যুবক যখন ‘সার্জন’
প্রতিবেদনে দেখা যায়, রনি নামের এক যুবক ওটিতে অপারেশন করছেন, যার শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র অষ্টম শ্রেণি। ক্যামেরার সামনে ধরা পড়ার পর তিনি স্বীকার করেন,
“আমি এইট পাস… আমি ইমপ্লান্ট কোম্পানির লোক।” অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম ‘ইলিজারভ’ পদ্ধতির অস্ত্রোপচার কোনো বিশেষজ্ঞ ছাড়াই সারছিলেন এই ভুয়া চিকিৎসক।
সুস্থ মানুষকে ‘আহত’ সাজিয়ে হাতে-নাতে ধরা
প্রতারণার কৌশল ধরতে এক সুস্থ তরুণকে আহত সাজিয়ে হাসপাতালে পাঠায় অনুসন্ধানী দল। হাসপাতালের পরিচালক লাবলু মিয়া সেই তরুণের অপারেশনের জন্য প্রথমে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন, যা পরে ২০ হাজার টাকায় রফা হয়। অথচ সেখানে অপারেশন করার মতো কোনো স্বীকৃত সার্জনই উপস্থিত ছিলেন না।
জালিয়াতির যত কৌশল
অনুসন্ধানে এই হাসপাতালের আরও কিছু ভয়ংকর দিক উন্মোচিত হয়েছে:
- প্রযুক্তির অভাব: হাড়ের অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘সি আর্ম’ প্রযুক্তির বদলে ভাড়ায় আনা পোর্টেবল এক্সরে মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছিল।
- ল্যাব জালিয়াতি: বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর কথা বলে প্যাথোলজি ল্যাব তালাবদ্ধ রাখা হলেও ভেতরে অবৈধভাবে ভুয়া রিপোর্ট ও বিল প্রস্তুত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- ভুয়া আইসিইউ বিল: সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগীদের ভাগিয়ে এনে আইসিইউ-র নামে মোটা অঙ্কের বিল করা হয়। এক ভুক্তভোগী জানান, একদিনেই তার কাছ থেকে ৬২ হাজার টাকা আইসিইউ বিল রাখা হয়েছে।
দালাল থেকে হাসপাতালের মালিক
প্রতিবেদনে জানা যায়, হাসপাতালের অন্যতম মালিক দুলাল মিয়া একসময় হাসপাতালের দালাল ছিলেন। জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর যমুনা টিভির সংবাদ প্রচার না করার জন্য তিনি রিপোর্টারকে টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও করেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকের ভাষ্যে, “এখানে নেই কোনো চিকিৎসক… অপারেশন হচ্ছে… রোগীর ক্ষতি হতে পারে, কেউ ধরবেন না।” এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে।










