Home আন্তর্জাতিক জর্ডানে ইরানের হামলায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন রাডার ধ্বংস; নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র

জর্ডানে ইরানের হামলায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন রাডার ধ্বংস; নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র

77
0
মার্কিন রাডার ধ্বংস
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের রাডার ধ্বংস। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতায় বড় ধরনের সামরিক ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্র। জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল একটি রাডার ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রের বরাতে এই খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আনে।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও রাডারের মূল্য

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, মার্কিন কোম্পানি RTX Corp.-এর তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী AN/TPY-2 রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জামগুলো যুদ্ধের শুরুতেই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য এই রাডারটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার বেশি)।

কেন এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা?

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইএস (CSIS)-এর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, “এই ধরনের কৌশলগত সম্পদ খুবই সীমিত। বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে বিকল্প কোনো রাডার আপাতত হাতে নেই বললেই চলে।”

এই রাডার ধ্বংসের ফলে সৃষ্ট প্রভাবসমূহ:

  • আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ফাটল: রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় অঞ্চলের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক দুর্বলতার মুখে পড়েছে।
  • প্যাট্রিয়টের ওপর বাড়তি চাপ: এখন ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার পুরো দায়িত্ব পড়েছে প্যাট্রিয়ট (Patriot) সিস্টেমের ওপর।
  • ক্ষেপণাস্ত্র সংকট: প্যাট্রিয়টের PAC-3 ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ অত্যন্ত সীমিত। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, উন্নত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।

কাতারেও হামলার শিকার মার্কিন রাডার

ক্যালিফোর্নিয়ার জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন-প্রলিফারেশন স্টাডিজ-এর গবেষণায় জানানো হয়েছে, জর্ডানের পাশাপাশি কাতারে স্থাপিত AN/FPS-132 নামের আরেকটি মার্কিন রাডারও ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি দূরপাল্লার হুমকি শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হতো।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের শাহাদাতের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ইরান তার ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ প্রয়োগ করে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

জর্ডানে মার্কিন রাডার ধ্বংসের এই খবরের প্রধান উৎসসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

১. সিএনএন (CNN): মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রের (Airbus/Planet Labs) বিশ্লেষণ প্রকাশ করে প্রথম জানায় যে, জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন AN/TPY-2 রাডারটি ধ্বংস হয়েছে।

২. ব্লুমবার্গ (Bloomberg): ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এই সরঞ্জাম ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

৩. সিএসআইএস (CSIS): ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর বিশেষজ্ঞ টম কারাকো এই রাডারের মূল্য (৩০০ মিলিয়ন ডলার) এবং এর ধ্বংসের ফলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, সে সম্পর্কে যান্ত্রিক বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন।

৪. মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন (Military Watch Magazine): বিখ্যাত এই সামরিক জার্নালটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাডারটি ধ্বংস হওয়ার কারিগরি দিক এবং এর ফলে ‘থাড’ (THAAD) সিস্টেমের কার্যকারিতা হ্রাসের বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

৫. হিন্দুস্তান টাইমস ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ: এছাড়া ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস, জাস্ট নিউজ বিডি এবং আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ফলো-আপ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

তথ্যসূত্র হাইলাইট:

  • রাডারের মডেল: AN/TPY-2 (থাড সিস্টেমের অংশ)
  • অবস্থান: মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটি, জর্ডান।
  • মূল্য: ৩০০ মিলিয়ন ডলার (রাডার) / ১ বিলিয়ন ডলার (সম্পূর্ণ ব্যাটারি)।

ইরানের এই বিধ্বংসী পাল্টা হামলার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা পশ্চিমা বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে।

সূত্র: পার্সটুডে