ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সারা দেশে ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাতে জোটের বৈঠক শেষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সহিংসতা বন্ধের আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং নেতাকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে। আমরা দেশে কোনো সংঘাত চাই না, শান্তিপূর্ণ রাজনীতি চাই। কিন্তু এভাবে হামলা চললে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হবে।”
তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের উদারতাকে যারা দুর্বলতা মনে করবেন, এটা তাঁদের নিজেদের জন্যই বিপদ ডেকে আনবে। আমরা প্রতিশোধ চাই না, কিন্তু এই অন্যায়ের প্রতিকার চাই।”
নির্বাচনী অনিয়ম ও ইসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচনে ব্যালট পেপার বাতিল ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, “একই ইস্যুতে ঢাকা-৮ আসনে এক ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আবার ঢাকা-১৩ আসনে তা বাতিল করা হয়েছে। এমনকি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের আসাতেও একই ধরণের অন্যায় করা হয়েছে। আমরা এই বৈষম্যমূলক আচরণের নিন্দা জানাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অনেক ঋণখেলাপি তথ্য গোপন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ইসিকে এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
জুলাই সনদ ও নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়েছে। এখন এই জুলাই সনদ কার্যকর করার সময়। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ২০২৬-এর নির্বাচনে কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে না। যারা পুরনো ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে চায়, আমরা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।”







