ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সরব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে কেবল স্লোগান বা সভা-সমাবেশ নয়, এবার রাষ্ট্র সংস্কারের এক সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে হাজির হচ্ছে দলটি।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীস্থ হোটেল শেরাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত।
দলীয়ভাবে এই ইশতেহারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন।
ইশতেহারে জামায়াতের ৫টি বিশেষ ‘মাস্টারপ্ল্যান’
জামায়াতের নীতি-নির্ধারকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ইশতেহার কোনো গতানুগতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি একটি বাস্তবায়নযোগ্য অধিকারের দলিল। এতে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে:
- বেকারত্ব দূরীকরণ: চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বেকার যুবকদের জন্য থাকছে সুদমুক্ত ‘স্টার্টআপ’ ঋণ এবং বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ।
- ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চমক: আগামী ২ বছর গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো এবং নতুন করে ট্যাক্স না বাড়িয়ে বিদ্যমান ট্যাক্স আদায় নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি।
- কৃষি ও কৃষক: সারের ওপর শুধু ভর্তুকি নয়, বরং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ‘ন্যায্যমূল্য আইন’ করার পরিকল্পনা।
- নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা: কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সমান মজুরি এবং মাতৃত্বকালীন সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
- ব্লু-ইকোনমি: সমুদ্র সম্পদকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে বিশেষ গবেষণা ও ইকোনমিক জোন গঠন।
কেন এই ইশতেহার আলাদা?
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে ইশতেহার তৈরি করেছে।
“আমরা ‘জনতার ইশতেহার’ ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৩৭ হাজারের বেশি লিখিত ও অডিও-ভিডিও মতামত পেয়েছি। মানুষের সেই আশা-আকাঙ্ক্ষাকেই আমরা আমাদের ইশতেহারে ধারণ করেছি।”
প্রশাসনের জন্য বিশেষ বার্তা
সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করতে বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক বেতন কাঠামোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে জামায়াত। দলটির আমিরের মতে, কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত না করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়া সম্ভব নয়। তাই ইশতেহারে বেতন কাঠামো সংস্কারের একটি বড় দিক থাকছে।










