অ্যাস্টাজেনথিন হার্ট

বর্তমান যান্ত্রিক জীবনে আমরা সবাই চাই সুস্থ থাকতে এবং তারুণ্য ধরে রাখতে। কিন্তু রোদের তাপ, পরিবেশ দূষণ এবং মানসিক চাপের কারণে খুব সহজেই আমাদের ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে, হার্টের সমস্যা দেখা দেয় এবং স্মৃতিশক্তি কমে যায়।

এই সবগুলোর সমাধান যদি একটি মাত্র উপাদানে পাওয়া যায়? হ্যাঁ, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় অ্যাস্টাজেনথিন (Astaxanthin)। একে অনেকেই ‘সুপার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’ বা ‘কিং অফ ক্যারোটিনয়েডস’ বলে থাকেন।

আজকের ফিচারে জানাবো অ্যাস্টাজেনথিন বা Astaxanthin কী, এটি কেন খাবেন এবং বাংলাদেশের বাজারে এটি কী নামে পাওয়া যায়।

অ্যাস্টাজেনথিন (Astaxanthin) আসলে কী?

অ্যাস্টাজেনথিন হলো একটি প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ভিটামিন সি-এর চেয়ে প্রায় ৬০০০ গুণ এবং ভিটামিন ই-এর চেয়ে প্রায় ৫৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এটি আমাদের শরীরের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং ভেতর থেকে শরীরকে রিজেনারেট বা পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে।

️ কেন খাবেন অ্যাস্টাজেনথিন? এর জাদুকরী উপকারিতা

গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাস্টাজেনথিন নিয়মিত সেবনে শরীরে অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়:

১. ত্বক ও সৌন্দর্যের সুরক্ষা (Anti-Aging & Skin Care)

  • সূর্য থেকে সুরক্ষা: এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray) থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
  • বলিরেখা ও ডার্ক সার্কেল: ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা নমনীয়তা বাড়ায়, যার ফলে বয়সের ছাপ, বলিরেখা এবং চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর হয়।
  • উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি: ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো সারিয়ে (Regenerate) ত্বকের স্বাভাবিক লাবণ্য ফিরিয়ে আনে।

২. হার্ট ও ব্রেইনের সুস্থতা

  • স্ট্রোক ও কোলেস্টেরল: এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে, যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
  • স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি: ডিমেনশিয়া বা ভুলে যাওয়া রোগ এবং অতিরিক্ত ডিপ্রেশন কমাতে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি মস্তিষ্কের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করে।

৩. ব্যথা নিরাময় ও হাড়ের যত্ন

বয়স বাড়ার সাথে সাথে জয়েন্ট পেইন বা বাতের ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা। অ্যাস্টাজেনথিন:

  • অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওপোরোসিস-এর মতো হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা বা প্রদাহ (Inflammation) কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

৪. অন্যান্য জটিল রোগ প্রতিরোধ

এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডসমূহ

বাংলাদেশের ফার্মেসীগুলোতে অ্যাস্টাজেনথিন বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায়। এর মধ্যে জনপ্রিয় কিছু নাম হলো:

Zanthin (জ্যানথিন)  – স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড 

 

 

অ্যাস্টাজেনথিন হার্ট
ছবি: স্কয়ারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

 

Asta King (অ্যাস্টা কিং) ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড

অ্যাস্টাজেনথিন হার্ট

Astamax (অ্যাস্টা ম্যাক্স) – পপুলার ফার্মা

অ্যাস্টাজেনথিন হার্ট
ছবি: পপুলার ফার্মা এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

VitalAsta (ভাইটালএস্‌টা)-ইউনিমেড ইউনিহেলথ

অ্যাস্টাজেনথিন হার্ট
ছবি: ইউনিমেড ইউনিহেলথ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

                                   Avanza (অ্যাভাঞ্জা)                                                

অ্যাস্টাজেনথিন হার্ট
ছবি: হেল্থকেয়ার ফার্মা এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

AztaCap (অ্যাজটাক্যাপ)

অ্যাস্টাজেনথিন হার্ট
ছবি: incepta ফার্মা এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট                                 

সেবনবিধি ও ডোজ

ওষুধটি থেকে সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে সঠিক নিয়মে সেবন করা জরুরি:

ডোজ: প্রতিদিন রাতে খাবারের পর ১টি করে ক্যাপসুল

সময়কাল: ভালো ফলাফলের জন্য কমপক্ষে ২ মাস নিয়মিত সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

⚠️ সতর্কতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণত অ্যাস্টাজেনথিন নিরাপদ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত। তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে এই ওষুধটি সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত:

  • ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নয়।
  • গর্ভবতী নারীদের সেবন করা উচিত নয়।
  • বুকের দুধ পান করাচ্ছেন এমন মায়েদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: যেকোনো সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ শুরু করার আগে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।)

সতর্কীকরণ: এই আর্টিকেলে প্রদত্ত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞান এবং শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট সেবনের পূর্বে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের (Registered Doctor) পরামর্শ নিন। আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো ঔষধ সেবনের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করবেন না। এই তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া কোনো পদক্ষেপের বা স্বাস্থ্যগত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দায়ভার eNewsUp বা Pharmaguide কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: এটি কি ফর্সা হওয়ার ওষুধ?

উত্তর: এটি সরাসরি ফর্সা হওয়ার ওষুধ নয়, তবে এটি ত্বকের ড্যামেজ রিপেয়ার করে উজ্জ্বলতা ও গ্লো বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন: এর দাম কত?

উত্তর: ব্র্যান্ডভেদে প্রতিটি ক্যাপসুলের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।