ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল)-এর পুনর্গঠিত পর্ষদের স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব আহমেদ মোশফেক আনাম-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে ওঠা এবং প্রতিষ্ঠানে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে জনাব আনামকে ‘মবস্টার’ (Mobster) ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান এন আই খান সিন্ডিকেটের দোসর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল অভিযোগসমূহের সারসংক্ষেপ
- আমানতের তথ্য গোপন ও সার্কুলার ব্যত্যয়: জনাব আহমেদ মোশফেক আনাম নিজ নামীয় আমানতের তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার ব্যত্যয় ঘটিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে নিজের জীবন বৃত্তান্ত দাখিল করে স্বতন্ত্র পরিচালক হয়েছেন।
- চেয়ারম্যান হতে না পারার ক্ষোভ: আর্থিক খাতে অভিজ্ঞতা না থাকায় চেয়ারম্যান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ না হওয়ায় তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন।
- পর্ষদ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ: তিনি নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান জনাব মাহবুবুল হককে পাত্তাই দিতে চাননা এবং পরিচালনা পর্ষদ সভায় অস্বাভাবিক আচরণ করে অযথা সময় নষ্ট করেন।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার বাস্তবায়ন রোধ: এন আই খানের পরিচালনা পর্ষদকালীন পদত্যাগী ডিএমডি মোঃ মশিউর রহমান, সাবেক মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জসিম উদ্দিন খান, আবু বকর সিদ্দিক, মোঃ আসাদুজ্জামান, শাহানা আক্তার সীমা, মোঃ মনিরুজ্জামান, রফিক হোসেনসহ সকল কর্মকর্তার তদন্ত পরবর্তী বাংলাদেশ ব্যাংক আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করলেও উক্ত মোশফেক আনামের বাঁধায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
- ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পদত্যাগে বাধ্য করা ও অভিযুক্তকে দায়িত্ব প্রদান: তিনি নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব খোরশেদ আলমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন। তার স্থলে নিজের পছন্দের, অথচ তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত, আবু বকর সিদ্দিককে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চলতি দায়িত্ব প্রদান করে প্রতিষ্ঠানে একধরণের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
- দুর্নীতিবাজদের রক্ষায় মরিয়া: স্বতন্ত্র পরিচালক আহমেদ মোশফেক আনাম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
পরিত্রাণ চেয়ে অভিযোগ:
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ এমন ভীতিকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ প্রদান করেছেন।
আইএলএফএসএল-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই গুরুতর অভিযোগ আর্থিক খাতের দুর্বলতম প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। যে স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ করা হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য , তাঁদের বিরুদ্ধেই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিরোধী কাজ , দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে কাজ করা এবং এমনকি নবনিযুক্ত এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগপত্রে জনাব আহমদ মুশফেক আনামের বিরুদ্ধে ফৌজদারী/দুদকের মামলা চলমান থাকার ও একাধিকবার জেল হাজতে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে । এছাড়াও, তিনি পর্ষদ সভায় অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটাচ্ছেন, যার ফলে আমানত ফেরত প্রদান এবং খেলাপী ঋণ আদায়ের মতো জরুরি কাজগুলি পিছিয়ে যাচ্ছে ।
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ তাই এখন সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করেছেন যে, ‘মবস্টার’ জনাব আহমদ মুশফেক আনামকে অপসারণ করে আর্থিক খাতে অভিজ্ঞতা ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যক্তিকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হোক। যেহেতু পর্ষদ সভার অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং আইএলএফএসএল-এর আইটি বিভাগে সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করা হয়েছে, এখন দেখার পালা— দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, নাকি আইএলএফএসএল-এ এন আই খান সিন্ডিকেটের প্রভাব আরও দৃঢ় হয়।
— নিজস্ব সংবাদদাতা










