বাড্ডায় বিএনপি নেতা সাধন

রাজধানীর বাড্ডায় বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলেও মনে হয় না। কারণ, তিনি বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন।

প্রবাসে বসেই গুলশান-বাড্ডা এলাকার অপরাধ ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন মেহেদী হাসান কলিংস। সাধনকে হত্যা করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেহেদী ঢাকায় তার ঘনিষ্ঠ মিজানুর রহমান মিমকে নির্দেশ দেন। এরপরই গত ২৫ মে রাতে জনসম্মুখে খুব কাছ থেকে গুলি করে সাধনকে হত্যা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, বাড্ডা সন্ত্রাস কবলিত এলাকা। চাঁদাবাজি, আধিপত্য নিয়ে মাঝেমধ্যেই লাশ পড়ে সেখানে। ডালিম, রবিন ও মাহাবুব গ্রুপের সঙ্গে মেহেদী হাসান কলিংস গ্রুপের বিরোধ দীর্ঘদিনের। মেহেদী থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে এবং তার প্রতিপক্ষ ডালিম, রবিন ও মাহাবুব থাকেন মালায়েশিয়া ও দুবাই। প্রবাসে বসেই তারা গুলশান-বাড্ডা এলাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন। নিহত গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাধন ছিলেন ডালিম, রবিন, মাহাবুবের ঘনিষ্ঠ। মধ্য বাড্ডায় সাধন যে ইন্টারনেট ব্যবসা দেখভাল করতেন সেটার নিয়ন্ত্রক ছিলেন ওই তিনজন। ইন্টারনেটের লভ্যাংশের টাকা চলে যেত তাদের কাছে। সাধন ছিলেন বেতনভুক্ত কর্মচারী। সাধন হত্যাকাণ্ড মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, বাড্ডা ও গুলশান এলাকার ডিশলাইন, ইন্টারনেট, ফুটপাত ও গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে মেহেদী ও মাহাবুবদের সঙ্গে বিরোধ হয়। সাধনকে হত্যা করলে মাহাবুবরা দুর্বল হয়ে যাবে- মিজানুরের কাছে এমন মন্তব্য করেছিলেন মেহেদী। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে বসে তিনি সাধনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। মিজানুরকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাধন হত্যা মামলায় মিজানুর গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া সাধনকে যারা খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করেছিলেন সেই হৃদয় চৌধুরী ও মুন্না ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। হৃদয়ও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

মিজানুর তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বলেছেন, সাধনের কারণে গুলশান-বাড্ডা এলাকার ইন্টারনেট, ডিশব্যবসা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ফুটপাত ও গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের দোকানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। তাকে সরিয়ে দিতে হবে। এভাবেই তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেহেদী নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সাধনকে সরিয়ে দিতে পারলে মাহাবুবরা দুর্বল হয়ে যাবে। তখন সবকিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, মেহেদী মিজানুরকে নির্দেশ দিলেও আরও কয়েকজনকে সাধনের পেছনে লাগিয়ে রেখেছিলেন। সাধন কোথায় যাচ্ছে কী করছে তাদের মাধ্যমে খবর রাখতেন তিনি। কিলিং মিশনে সরাসরি চারজন অংশ নেয়। তবে সাধনকে গুলি করেছেন হৃদয় ও মুন্না। বাকী দুজন আশপাশে অবস্থান করছিলেন।

২৫ মে রাতে মধ্য বাড্ডার গুদারাঘাটের চার নম্বর সড়কে সাধন তিন বন্ধুর সঙ্গে চেয়ারে বসেছিলেন। রাত ১০টার দিকে হৃদয় ও মুন্না হেঁটে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যান। এই দুজন গ্রেপ্তার হলেও তাদের সেই দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। সাধন হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির গুলশান বিভাগ।

ডিবির গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার কামরুল হাসান সমকালকে বলেন, সাধন হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সূত্রঃ সমকাল