Home আমার ঢাকা রাজধানীতে পশুর হাট: বড় গরু নিয়ে দুশ্চিন্তা খামারিদের

রাজধানীতে পশুর হাট: বড় গরু নিয়ে দুশ্চিন্তা খামারিদের

304
0
রাজধানীতে পশুর হাট

আজ বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার ছুটি আরম্ভ হয়েছে। কোরবানির পশু কেনাকাটার কেন্দ্রস্থল হাটগুলোতে খরিদ্দারদের সমাগম ক্রমশ বাড়ছে, সেই সঙ্গে কেনাবেচাও গতি পেয়েছে।

হাট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, এ বছর পশুর হাটে প্রচুর গরু আমদানি হলেও, তুলনামূলকভাবে বৃহদাকার গরুর চাহিদা কিছুটা কম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুর পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেল, ক্রেতাদের আনাগোনা বেশ লক্ষণীয়। অনেকের সাথেই পরিবারের নারী ও শিশুরাও এসেছেন কোরবানির পশু দেখতে ও কিনতে।

সেখানেই কথা হয় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে আগত গো-ব্যবসায়ী মফিদুল ইসলামের সাথে। তিনি জানালেন, চার মাস ধরে নিজ তত্ত্বাবধানে গরু মোটাতাজা করেছেন। তার আনা দুটি বড় গরুর প্রতিটির মাংস ৭-৮ মণ হতে পারে, যার জন্য তিনি ৪ লক্ষ টাকা দাম চাইলেও, ২ লক্ষ টাকায় পেলে ছেড়ে দেবেন। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার হাটে গরু আনার পর তার ছোট ও মাঝারি আকারের সব গরু বিক্রি হয়ে গেলেও, অবিক্রিত দুটি বড় গরু নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত।

পশুর হাট: বড় গরু নিয়ে

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কচুক্ষেত বাজার (রজনীগন্ধা সুপার মার্কেট সংলগ্ন) হাটে গরুর আমদানি ও ক্রেতা সমাগম চোখে পড়ার মতো হলেও, বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে ধীরগতির। ফাতিন ডেইরি ফার্মের কর্ণধার ইসলাম উদ্দিনের ভাষ্যমতে, প্রত্যাশিত দাম মিলছে না। ক্রেতার উপস্থিতি যথেষ্ট হলেও, চড়া মূল্যের গরুর প্রতি আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।

অপরদিকে ব্যবসায়ী মফিদুল হক জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা। তার ছোট ও মাঝারি আকারের গরুগুলো দ্রুত বিক্রি হয়ে গেলেও বড় দুটি গরু নিয়ে তিনি শঙ্কায় আছেন। তিনি বলেন, “বড় গরু দুটি বাড়িতে ফেরত নিয়ে গেলেও লোকসান, তাই যে কোনো মূল্যে বিক্রি করতে হবে। এই হাটে আমি চার বছর ধরে আসছি, আগের বছরগুলোতে এমন বড় গরু ওজনের চেয়েও বেশি দামে ক্রেতারা কিনেছেন। এবার মনে হচ্ছে, হয় অবস্থাসম্পন্ন মানুষেরা দেশে নেই, অথবা বেশি দাম দিয়ে গরু কেনার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত।”

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে ১০টি ছাগল নিয়ে হাটে এসেছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, এর মধ্যে দুটি ছাগল মোট ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তার আনা সবচেয়ে ছোট ছাগলটির জন্য তিনি ১৫ হাজার টাকা দাম চাইছেন, আর প্রায় ২৫ কেজি ওজনের বড় ছাগলটি ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করার আশা রাখছেন।

হাটটির ইজারাদার আনিসুর রহমান টিপু জানালেন, ‘মঙ্গলবার রাত থেকে বাজার পুরোপুরি জমে উঠেছে। ছোট, বড় ও মাঝারি সব ধরনের গরু প্রধানত এক থেকে দুই লক্ষ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। ছাগলের সরবরাহও পর্যাপ্ত। এই কেনাবেচা ঈদের আগের দিন অর্থাৎ চাঁদ রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’

নিকটবর্তী কমলাপুর পশুর হাটটিও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে জমজমাট। এটি সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের সীমানা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে বিস্তৃত হয়েছে। অন্যদিকে, মুগদা বিশ্বরোড থেকে গোপীবাগ অভিমুখী সড়কের দুই পাশ গরুর সারিতে পূর্ণ।

এই হাটে সোমবার চুয়াডাঙ্গা থেকে আটটি গরু নিয়ে এসেছিলেন তানভীর হাসান। তার মধ্যে চারটি গরু তিনি ছয় লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। অবশিষ্ট চারটি গরুর সম্মিলিত দাম ১০ লক্ষ টাকা চাইলেও, ছয় লক্ষ টাকা পেলে বিক্রি করে দেবেন বলে জানালেন। তিনি আরও জানান, তার প্রতিটি গরু থেকে আনুমানিক ৫-৭ মণ মাংস পাওয়া যাবে।

তথ্য সূত্রঃ দৈনিক সমকাল