চাকরি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে মহানগর পুলিশ দ্রুত লাঠিচার্জ করে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিচার্জে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান ক্যাম্পাস ছেড়ে নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটির নিজের বাসায় যান।
এর আগে গত ৫ মে তারিখে উপাচার্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী পদে ১৩৭ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করেন। যারা উপাচার্য ভবনে গিয়ে যোগদানপত্র জমা দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘৬ মে রাত ১২টা পর্যন্ত আমার নিয়োগ আছে। তার আগেই সরকারি বাড়ি ছেড়েছি। আমি পুলিশের পাহারা চাইনি, পুলিশ ইচ্ছা করেই আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তার সময়ে শত বিতর্কের পরও নিজেকে সফল দাবি করে তিনি বলেন, আমি মনে করি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। এই চেয়ারটি অনেক চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করতে হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৭ মে দ্বিতীয় মেয়াদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যোগদান করেন অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। বৃহস্পতিবার (৬ মে) তার শেষ কার্যদিবস ছিল। শেষদিন বিভিন্ন পদে ১৩৭ জনকে এডহক নিয়োগ দিয়ে গেছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকরি প্রত্যাশী মহানগর ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে এসে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সেকশন অফিসার মাসুদের উপর হামলা চালায়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাবি শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করতে এগিয়ে গেলে তাদের উপরও হামলা করা হয়। পরে রাবি ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে ধাওয়া করলে মহানগর ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যান।
রাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী পরিচালক জানান, আজ রাবি ভিসি আব্দুস সোবহানের মেয়াদের শেষ দিন। তিনি চাকরি প্রত্যাশী ১৩৭ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রচার হলে মহানগর ছাত্রলীগের চাকরি প্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। এ সময় তারাও চাকরি দাবি করে এবং তাদের এমন ভাব যেনো এখনই তাদের নিয়োগ দিতে হবে। এ নিয়ে সেকশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার হামলা চালায়। এ সময় আমি এগিয়ে গেলে তারা আমাকেও লাঞ্ছিত করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় রাবি ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী সেখানে ছিল। তারা এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা করা হয়। পরে রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ এসে লাঠিচার্জ শুরু করলে দুই পক্ষেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্তের পর অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতবছর ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরণের নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।
গত কয়েকদিন ধরে অবৈধ নিয়োগের আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকসহ চাকরি প্রার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীরা লাগাতার আন্দোলন করছিল। গত ৪ মে উপাচার্যের শেষ সিন্ডিকেট মিটিংকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকরা স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। এসময় একজন ছাত্রলীগ কর্মী শিক্ষকদের প্রকাশ্যে গুলি করে মারার হুমকি দেয়।
এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে মাস্টাররোলের কর্মচারীরা অভিযোগ করে আসছিলেন, তারা গত এক মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস পাচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস প্রদান শুরু হয়েছে বলে মাস্টাররোল কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. মাসুদুর রহমান জানান। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন ছুটি, শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ৯ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস এবং ৩০ মে পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. মো. আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রঃ ইত্তেফাক







