Home ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২ মরক্কোকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স

মরক্কোকে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স

407
0
মরক্কো
ছবিঃ রয়টার্স

ম্যাচের পাঁচ মিনিটে প্রথম গোল। আর দ্বিতীয়ার্ধে বোনাস গোল। এই দুই অর্ধের দুই গোলের সঞ্চয়ে ফ্রান্স পৌঁছে গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে। শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপে মরক্কোর মিরাকল যাত্রা।

১৮ ডিসেম্বর কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে লড়বে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলছে ফ্রান্স।

মরক্কোর জন্য ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন নিয়ে সেমিফাইনালের শুরু। গোটা ম্যাচে সেই সঙ্কট থেকে তারা আর বের হতে পারেনি। পাঁচ মিনিটে ডিফেন্সের ভুলে গোল খেল তারা। যে ডিফেন্স নিয়ে এতো বেশি প্রশংসা পাচ্ছিল মরক্কো। সেই বিভাগের ভুলেই ম্যাচে পিছিয়ে পড়ল।

ইনজুরিও দলের বিপদ আরও বাড়ায়। ম্যাচ শুরুর আগেই ওয়ার্ম আপে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন অধিনায়ক রোমেইন সিসে। কিন্তু পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে ঠিকই মাঠে নামেন তিনি। সিদ্ধান্তটা ভুল ছিলো। ২১ মিনিটের বেশি সেই ইনজুরি নিয়ে খেলতে পারেননি মরক্কো অধিনায়ক। বাধ্য হন মাঠ ছাড়তে। ম্যাচ শুরুর পাঁচ মিনিটে মরক্কোর গোল হজমের পেছনে মুল দায় দলের ডিফেন্সের। সন্দেহ নেই হার্নান্দেজের গোলটা দুর্দান্ত ছিল।

অ্যাক্রোবেটিক ভলি শটটা ছিলো মনে রাখার মতো। কিন্তু ঐ পজিশনে তিনি ফাঁকায় থাকবেন কেন? মরক্কোর ডিফেন্স কই ছিল? ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।

তবে এই অর্ধে যে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে দু’দল ঝাঁপিয়েছিল তাতে এই স্কোরলাইন যে কোন দিকেই আরও বড় হতে পারত। ম্যাচের ১৭ মিনিটের সময় অলিভার জিরুড গতিতে মার্কার খসিয়ে বাম প্রান্ত থেকে যে প্রচন্ড গতির শট নেয় সেটা মরক্কোর গোলপোস্ট এবং গ্যালারিতে বসা সমর্থকদের কলজে নাড়িয়ে দিল। জিরুডের সেই সাইডপোস্টে লেগে ফিরল। নিশ্চিতভাবে লিড ২-০ করা থেকে বঞ্চিত হলো ফ্রান্স।

বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়লো মরক্কো। তবে পিছিয়ে পড়া মানেই ধসে পড়া নয়। শুরুতে গোল খাওয়া মানেই হেরে যাওয়া নয়। গোল শোধের জন্য কৌশলে বদল করলো মরক্কো। পাঁচজন নিয়ে তাদের চিরায়িত ডিফেন্স কৌশলে বড় একটা বদল আনে তারা।

ডিফেন্স থেকে একজনকে কমিয়ে তাকে মাঝমাঠে খেলায়। কোচের এই কৌশল বদল তাদের কাজে লাগে বেশ। গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হয়। তবে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য যেরকম ক্লিনিক্যাল ফিনিসিংয়ের প্রয়োজন ছিল, তার দেখা যে মিলল না আর। ফাইনাল থার্ডে এসে সব আক্রমণের খেই হারিয়ে ফেলে মরক্কো।

জিয়েস, বাউফল ও হাকিমি-এই ত্রয়ী ফ্রান্সের রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দিলেও আসল কাজটাই যে হল না। গোল আর এল না!

৪৫ মিনিটের সময় এল ইয়ামিকের বাইসাইকেল কিক ম্যাচে সমতা প্রায় নিয়েই এসেছিল। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে একহাত লাগিয়ে রক্ষা করেন হুগো লরিস। গোল শোধের তাড়ায় মরক্কোর মরিয়া চেষ্টা ফ্রান্সের ডিফেন্সকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। কিন্তু ফ্রান্সের গোলদূর্গ ভাঙ্গতে পারেনি তারা।

উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে মার্কোস থুরাম ও কিলিয়ান এমবাপে ওয়ান টু পাসে মরক্কোর ডিফেন্সকে আরেকবার টলমলো করে দিলেন। থুরামের কাছ থেকে পাওয়া পাসে বক্সের ভেতর সামনে থাকা তিন ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক গলে এমবাপে বল থ্রু বাড়ান। সেকেন্ড পোস্টে ফাঁকায় দাঁড়ানো বদলি খেলোয়াড় কুলো মোয়ানি আলতে ট্যাপে গোল করেন। সেটাই এই ম্যাচে বলে তার প্রথম স্পর্শ! ম্যাচের ৭৯ মিনিটে বদলি নেমেই প্রথম টাচেই গোল!

এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। বাকি জীবন গর্ব করে বলতে পারবেন মোয়ানি-আমার ‘বোনাস’ গোলে ফ্রান্স ফাইনালে!