হবিগঞ্জ জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি সনদ জালিয়াতি করে ৭ বছর ধরে পিপি ও ৩৪ বছর ধরে হবিগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুয়া সনদ দিয়ে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বাাগিয়ে নিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি পদও।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজুল হক তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাস ও ঢাকা ল কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব ল পাস সনদ ব্যবহার করে ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী সনদ বাগিয়ে নেন। তার সার্টিফিকেট যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে বিএ পাস করেন।
১৯৮১ সালের ১৬ মার্চ জারিকৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটটিতে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদের স্বাক্ষর রয়েছে।
অথচ প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হন ১৯৯২ সালে। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন ড. ফজলুল হালিম চৌধুরী। এ ছাড়া সার্টিফিকেটটির ওপরের বাম পাশে রোল নম্বর, ডান পাশে সিরিয়াল নম্বর রয়েছে- যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপত্রে ব্যবহার করা হয় না।
প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে আসা তার সার্টিফিকেটের অনুলিপি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা সার্টিফিকেটটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, স্বাক্ষরটি এমাজউদ্দীন আহমদের। সার্টিফিকেট ইস্যুকৃত তারিখের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন না। সুতরাং সার্টিফিকেটটি সঠিক হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
এ ছাড়া সিরাজুল হকের ল পাস সার্টিফিকেট যাচাই করে দেখা যায় ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা ল কলেজ থেকে তিনি ল পাস করেন। কিন্তু ঢাকা ল কলেজে যোগাযোগ করে সেখানে সংরক্ষিত ১৯৮৫ সালের ল পাস করা শিক্ষার্থীদের অফিসিয়াল ফলাফলের তালিকায় তার নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ আদালতের একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সহকারী নিয়োগ দিয়ে দাপটের সঙ্গে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন সিরাজুল হক। ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় পেয়েছেন পিপি পদও।
এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক বলেন, ‘আমার সব সার্টিফিকেট সঠিক। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি তার কাছে থাকা সার্টিফিকেটের অনুলিপি এ প্রতিবেদককে গত ৮ মে হোয়াটঅ্যাপে পাঠাবেন বলে জানালেও পরে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি আর ফোন গ্রহণ করেননি।
সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ







