Home বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু টানেল: খুলছে আরেক নতুন দুয়ার

বঙ্গবন্ধু টানেল: খুলছে আরেক নতুন দুয়ার

330
0
বঙ্গবন্ধু টানেল

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল আগামীকাল শনিবার (২৮ অক্টোবর) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার হাত ধরেই টানেলের সোনালি আলোর রশ্মি ছড়াবে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে। সেই অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ।পুরো দক্ষিণ এশিয়া দীর্ঘকাল ধরে যা করতে পারেনি, সেটিই বিশ্বমানচিত্রের ক্ষুদ্র বদ্বীপ দেশটি করে দেখিয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার শহরপ্রান্তে এই বঙ্গবন্ধু টানেলের নামফলক উন্মোচন করবেন তিনি। পরে টানেল পার হয়ে আনোয়ারা প্রান্তে কাফকো কলোনি-সংলগ্ন কেইপিজেড মাঠে গিয়ে জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই টানেল উদ্বোধন সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গাড়িবহর নিয়ে টানেল পরিদর্শনে যায় ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের একটি দল। টানেল ও জনসভাস্থল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকে ব্যস্ত সময় পার করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। এছাড়া সরকারের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা সর্বশেষ প্রস্তুতি সার্বক্ষণিকভাবে তদারক করছেন।

জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধু টানেল ঘিরে চীনের সাংহাই সিটির আদলে চট্টগ্রাম শহর ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ রূপ নেবে। এই টানেলের ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। আগামীকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু টানেলসহ মোট ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু টানেল

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কক্সবাজারে আমানত শাহ সেতু হয়ে যেতে অনেক সময় লাগত। এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল হয়ে যেতে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের সেই পথ ৩ মিনিটেই যাওয়া যাবে। এছাড়া স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল ঘিরে নদীর দক্ষিণপাড়ের আনোয়ারা, কর্ণফুলী, পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এই উপজেলায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। শুধু টানেল নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্পনগর, মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র- এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অনেক মানুষের কর্মস্থান হবে। বদলে যাবে চট্টগ্রাম।

টানেল উদ্বোধন ও জনসভা সামনে রেখে আনোয়ারা উপজেলার কোরিয়ান ইপিজেড এলাকায় নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৮ বর্গফুটের বিশাল মঞ্চ। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যানার-ফেস্টুন তোরণে ছেয়ে গেছে গোটা চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এসব ব্যানার-ফেস্টুনে মেগা প্রজেক্টসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। টানেল সংযোগ সড়কের রোড ম্যাপিং, ডিভাইডারে রঙ, আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী বাজার থেকে ক্রসিংসহ বিভিন্ন স্থানে ইউটার্নে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। জনসভায় পাঁচ লাখ মানুষ আসার লক্ষ্য রয়েছে আওয়ামী লীগের।

বঙ্গবন্ধু টানেলটি চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি প্রান্ত থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং আনোয়ারার কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার লিমিটেড কারখানার মধ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে সংযোগ স্থাপন করেছে। ৩ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেলে রয়েছে ১০ দশমিক ৮০ মিটার ব্যাসের দুটি টিউব। দুই টিউবে নির্মিত হয়েছে চার লেনের সড়ক। টিউবের দুই লেনের এই সড়কের প্রশস্ততা ৩৫ ফুট। টানেলের উচ্চতা ১৬ ফুট। প্রকল্পটি ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। টানেলের উত্তর টিউব দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে আনোয়ারার দিকে এবং দক্ষিণ টিউব দিয়ে আনোয়ারা প্রান্ত থেকে শহরমুখী যান চলাচল করবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উদ্বোধনের পরদিন সকাল ৬টায় যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় সেতু ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘টানেল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪ হাজার ৬১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণসহায়তা ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা।’

টানেল নির্মাণে বাণিজ্যিক চুক্তি হয় ২০১৫ সালের ৩০ জুন। পরের বছরের ১৪ অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর। প্রধানমন্ত্রী টানেলের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি।

সূত্রঃ প্রতিদিনের বাংলাদেশ