Home Uncategorized প্রাসাদের গোপন সুরঙ্গ দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট

প্রাসাদের গোপন সুরঙ্গ দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট

169
0
ছবিঃ সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সরকারি ভবনে আলমারির দরজা খুলতেই চোখে পড়ল সিঁড়ি। ধাপে ধাপে সেই সিঁড়ি নেমে গেছে অনেক নিচে। সিঁড়ি ধরে নামলে থেমে যেতে হবে এক লোহার দরজার সামনে। সম্ভবত ওই দরজার ওপারে রয়েছে সুড়ঙ্গ। সেই সুড়ঙ্গ দিয়েই কি তবে পালিয়ে গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে?

শনিবার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। দাবি, পদত্যাগ করতে হবে গোতাবায়াকে। তার পর থেকেই প্রেসিডেন্টের বাসভবন তছনছ করছেন বিক্ষোভকারীরা। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কখনো সুইমিং পুলে স্নান করছেন তারা। কখনো সরকারি ভবনের রান্নাঘরে খাওয়া-দাওয়া করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেল, প্রেসিডেন্টের পালঙ্কে শুয়ে রয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তুলছেন ছবিও।

সরকারি বাসভবন খানাতল্লাশির সময়ই বিক্ষোভকারীরা খুলে ফেলেন নকল ওই আলমারির দরজা। তার পরেই তাদের চোখে পড়ে সেই সিঁড়ি।

শনিবার দুপুরে প্রেসিডেন্টের বাড়িতে বিক্ষোভকারীদের জোর করে ঢুকে পড়ার কিছুক্ষণ আগেই সেখান থেকে পালিয়ে যান গোতাবায়া। মনে করা হচ্ছে, ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই পালিয়ে গিয়েছেন তিনি। শনিবার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের ব্যক্তিগত বাড়িতেও আগুন দেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে শ্রীলঙ্কান সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১১ জুলাই) বিকেলে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে দেশ ত্যাগ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ জুলাইয়ের বিক্ষোভের পর শ্রীলঙ্কার জলসীমার মধ্যে নৌবাহিনীর একটি জাহাজে থাকা রাজাপাকসে আজ ত্রিবাহিনীর কমান্ডারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দেশ ত্যাগ করেন। তবে তিনি ঠিক কোন দেশে গেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

যদিও ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন গোটাবায়া। তিনি আগামী ১৩ জুলাই পদত্যাগ করবেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন বলে খবরে বলা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতিতে জর্জরিত এবং ৭০ বছরের ইতিহাসে দেশটি সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। যার কারণে খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধ আমদানি করতে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।

দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা শেষ হয়ে গেছে এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য পেট্রোল এবং ডিজেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হয়েছে, যার ফলে জ্বালানির জন্য দিনব্যাপী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।