নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ৪নং বিরিশিরি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির ৮০ নং সদস্য আবুল বাশার বাদশার বিরুদ্ধে ভয়াবহ মাদক ব্যবসা ও সেবনে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি তার ইয়াবা সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাশার বাদশা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও বিদেশি মদের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একসময় দুর্গাপুর কাঁচা বাজার এলাকায় মুরগির ব্যবসার আড়ালে এসব মাদকদ্রব্যের চোরাচালান চালাতেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও সেবনে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকেই তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে এবং বর্তমানে তিনি এলাকায় “মাদক সম্রাট” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত টাকায় রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া বাদশা এখন টাকার জোরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে তার পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতিও তিনি দায়িত্বহীন আচরণ করছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাদশা স্থানীয় এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার সহযোগিতায় অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বিরিশিরি ইউনিয়নের যুব সমাজ ধীরে ধীরে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
এলাকার সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা বলেছেন, “একজন রাজনৈতিক নেতার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়বে।”
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আবুল বাশার বাদশা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদক ব্যবসা বা সেবনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কেউ ছাড় পাবে না। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।”
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত মাদকমুক্ত দুর্গাপুর গড়তে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
–নিজস্ব সংবাদদাতা, দূর্গাপুর।








