Home ওপার বাংলা কেকে’র মৃত্যু, অব্যাবস্থাপনাই দায়ী? বন্ধ হতে চলেছে নজরুল মঞ্চ

কেকে’র মৃত্যু, অব্যাবস্থাপনাই দায়ী? বন্ধ হতে চলেছে নজরুল মঞ্চ

206
0
মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে কে কে’র সংগীত পরিবেশন। ছবিঃ কে কে’র ফেসবুক পেজ

সংগীতশিল্পী কেকে’র অকাল মৃত্যুর পর ভারতের কলকাতার নজরুল মঞ্চে কলেজ ফেস্ট হওয়া নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার। আপাতত সমস্ত কলেজের সোশ্যাল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে প্রস্তাব দিয়েছে কেএমডিএ।

চারদিক ঢাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নজরুল মঞ্চে (Nazrul Mancha) আসন সংখ্যা মেরেকেটে ২,৭০০। অথচ প্রিয় কেকে’কে দেখতে মঙ্গলবার ভিড় জমিয়েছিলেন অন্তত ৭০০০ অনুরাগী। এমন ভিড়ে ঠাসা অবস্থায় এসি চললেও তা আর কোনওভাবেই অনুভূত হচ্ছিল না। ফলে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয় নজরুল মঞ্চের ভিতর।

তার মধ্যে স্পটলাইটের আলো আরও সমস্যা ফেলছিল কেকে’কে (KK)। সেই আলো বন্ধ করার অনুরোধও জানিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। আয়োজকদের দিকে ইতিমধ্যেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) খোদ সে কথা জানিয়েছেন।

শেষ কনসার্ট, নজরুল মঞ্চ (কলকাতা)। ছবিঃ কে কে ‘র অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে নেয়া।

এদিন সকালে কেএমডিএ-র (KMDA) তরফে পুরমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ এসেছে, যে আপাতত কোনও কলেজ ফেস্টের জন্য নজরুল মঞ্চকে ব্যবহার করা যাবে না।

এদিন ফিরহাদ বলেন, “নজরুল মঞ্চের যে আসন সংখ্যা, তার চেয়ে বেশি সংখ্যক দর্শক ঢুকিয়ে দিচ্ছে কলেজগুলো। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছে না তারা। যেখানে ২,৭০০ আসন রয়েছে, সেখানে ৭০০০ মানুষ প্রবেশ করেছে। এমনকী পাঁচিল টপকেও লোকজন ঢুকে পড়েছে। এটা একেবারেই নিয়মবিরুদ্ধ। তাই ফেস্ট বন্ধের ব্যাপারে সুপারিশ এসেছে। আমরা আলোচনা করে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।” উল্লেখ্য এই নজরুল মঞ্চ হল কেএমডিএ-র অধীনস্ত। আর এই কেএমডিএ-র বোর্ড চেয়ারম্যানও ফিরহাদ হাকিম। আবার পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রীও তিনি। ফলে কলেজ ফেস্ট বন্ধের সুপারিশে যে সবুজ সংকেতই মিলবে, তা আন্দাজ করাই যায়।

নজরুল মঞ্চের নিরাপত্তারক্ষীরাও জানাচ্ছেন, গতকাল প্রায় সাত হাজার লোক কেকে’র কনসার্টে ভিড় জমিয়েছিল। একসময় ৩ নম্বর গেটের বাইরে থেকে ইট-পাটকেল, বাঁশের টুকরো ছুঁড়তে শুরু করে অনেকে। আর এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পারফর্ম করার পরই চিরঘুমে চলে গেলেন কেকে।

প্রয়াত গায়কের ম্যানেজার রীতেশ ভাট জানাচ্ছেন, গাড়ির মধ্যে শীত করছিল কেকে’র। এসি বন্ধ করা হয়। হাতে-পায়ে ক্র্যাম্প ধরতে শুরু করে। হোটেলের ঘরে ঢুকে সোফায় বসতে গিয়ে পড়ে যান। তারপরই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না সংগীতশিল্পীর।

সূত্রঃ সংবাদ প্রতিদিন