ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেত্রী ও সাবেক কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী সম্প্রতি ইসরাইলের দ্বারা ইরানের ওপর পরিচালিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি একটি “অবৈধ ও অনৈতিক” হামলা যা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপর ইচ্ছাকৃত আগ্রাসন।
সোনিয়া গান্ধী এই মন্তব্য করেন ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু-তে প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধে। ১৩ জুন তারিখে ইরানের ভূখণ্ডে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই সম্পাদকীয়টি লেখেন।
ইসরাইলের হামলা অবৈধ এবং বিপজ্জনক
নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী বলেন, “ইরানের উপর ইসরাইলের এই সামরিক আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি আগ্রাসন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই হামলা কেবল ইরান নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
মোদি সরকারের নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা
তিনি ভারত সরকারের ভূমিকা এবং বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, “ভারত বহু দশক ধরে একটি স্বাধীন ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থানকারী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের ইসরাইলপন্থী অবস্থান এবং ইরানের ওপর হামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান না নেওয়া দেশের নৈতিক ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
ঐতিহ্যবাহী পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী অবস্থান
সোনিয়া গান্ধী মনে করেন, ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অহিংসা, নিরপেক্ষতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে। ভারত জাতিসংঘের চার্টার, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল সবসময়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এই নীতিগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সোনিয়া গান্ধীর এই সম্পাদকীয় একদিকে যেমন ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান দিকনির্দেশনার উপর এক শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছে, অন্যদিকে দেশীয় রাজনীতিতেও এটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কংগ্রেস দল আন্তর্জাতিক বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।
সোনিয়া গান্ধীর এই বক্তব্য কেবল ইসরাইল-ইরান সংকট নয়, বরং ভারত সরকারের আন্তর্জাতিক ভূমিকাকেও কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এটি সরকারের জন্য একধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।ৎ
— নিউজ ডেস্ক










