Home ওপার বাংলা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে মমতার শোক

অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে মমতার শোক

194
0

কলকাতার বিনোদন জগতে ফের নক্ষত্রপতন। প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায় (Abhishek Chatterjee)। মৃত্যুকালে অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সাংস্কৃতিক মহল।

জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে একটি চ্যানেলের শুটিংয়ে ছিলেন অভিনেতা। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বেশ কয়েকবার বমি করেন তিনি। সেই সময় তাঁকে হাসপাতালে ভরতির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে রাজি হননি তিনি। অভিষেকবাবু জানিয়েছিলেন, বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা করাতেই চান। সেই মতো রাতে বাড়িতেই শুরু হয় চিকিৎসা। স্যালাইনও দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল না। রাত ১ টা নাগাদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায় (Abhishek Chatterjee)। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে অভিনেতার প্রয়াণে শোকের ছায়া পরিবার ও টলিপাড়ায়। টুইটে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার শোকবার্তায় লিখেছেন, ‘অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি গতকাল গভীর রাতে কলকাতায় প্রয়াত হন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলি ‘পথভোলা’, ‘সুরের আকাশে’, ‘পাপী’, ‘শেষ প্রতীক্ষা’, ‘সীমান্ত পেরিয়ে’, ‘রাত্রি শেষের তারা’, ‘আলো’ ইত্যাদি।

তাছাড়াও ‘টাপুর টুপুর’, ‘চোখের তারা তুই’, ‘ফাগুন বৌ’, সহ বহু জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালেও তিনি অভিনয় করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে ২০১৫ সালে বিশেষ চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করে। তার প্রয়াণে অভিনয় জগতে এক শূন্যতার সৃষ্টি হল। আমি অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের আত্মীয়-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

নব্বইয়ের দশকে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা ছিলেন অভিষেক। এক সময় প্রসেনজিৎ, তাপস পালদের সঙ্গে একসারিতে নাম উঠতো তার।

১৯৬৪ সালের ৩০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেছিলেন অভিষেক চট্টোপাধ্যায় (Abhishek Chatterjee)। তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি পথভোলা। একটা সময়ে নিয়মিত সিনেমার কাজ করেছেন অভিষেক। তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে আছে, মায়ার বাঁধন, জয়বাবা ভোলানাথ, মায়ের আঁচল, গীত সংগীত, সুজন সখী। অল্প সময়ে দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

উৎপল দত্ত, সৌমিত্র চ্যাটার্জি, সন্ধ্যা রায়ের মতো প্রতিভাশালী অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দায় দেখা গেছে অভিষেককে। কাজ করেছেন শতাব্দী রায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ইন্দ্রাণী হালদারের মতো প্রথম সারির অভিনেত্রীদের নায়ক হয়ে।

১৯৮৬ সালে তরুণ মজুমদারের ছবি ‘পথভোলা’ দিয়ে সিনেমায় যাত্রা শুরু। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো- ‘দহন’, ‘বাড়িওয়ালি’, ‘মধুর মিলন’, ‘মায়ের আঁচল’, ‘আলো’, ‘নীলাচলে কিরীটি’।

শুধু বড় পর্দায় নয়, ছোট পর্দায়ও তিনি সমানভাবে সাবলীল অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন।