গতকাল সহ কয়েকদিনে হেফাজতের তান্ডবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং অসংখ্য সাংবাদিককে মারধর, গাড়ী পোড়ানো ইত্যাদী নারকীয় যজ্ঞ চালিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। অনেকের দেখা এই তান্ডবকে তারা বলেন “একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে নারকীয় এ তাণ্ডব”।

ইসলামের হেফাজত কি এভাবে করে? মানুষ মেড়ে ও পুড়িয়ে? শুধুই কি হেফাজত ছিলো নাকি মাষ্টারমাইন্ড আরো কোন শক্তি? এসব প্রশ্নের খোলাসা হবে নিশ্চয়ই।

সংক্ষেপে দেখে নেয়া যাক গত কয়েকদিনে হেফাজতে ইসলামের তান্ডবের ফলাফল-

১. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন এখন পোড়া ভস্ম। ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা।

২. ২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা হরতালের দিন তান্ডব চালানো হয়েছে অন্তত শতাধিক সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্দির, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে। আগুনে পোড়া থেকে বাদ পড়েনি কোরআন শরীফও।

৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল সূত্র মতে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন। পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত দুই শত। এর মধ্যে প্রায় একশ’র বেশি পুলিশ রয়েছে। বাকি আহতরা আন্দোলনকারী ও পথচারী। জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিহতের সংখ্যা ১২।

৪. ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সদর উপজেলা ভূমি অফিসের একটি কাগজও রক্ষা পায়নি আগুন থেকে, এখনো বাতাসে পোড়া গন্ধ।

আরও- হেফাজত নেতা-কর্মীরা ২৮ মার্চ হরতাল চলাকালে সকাল থেকে দুপুর নাগাদ জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌর সভা কার্যালয়, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন, প্রেস ক্লাব, আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, পুলিশ লাইন, সদর থানা, খাঁটি হাতা বিশ্বরোড হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী বাড়ি, দক্ষিণ কালী বাড়ি, রেলওয়ে স্টেশন, শিল্পকলা একাডেমি, জেলা আওয়ামী লীগ ও সংসদ সদস্যের কার্যালয়, সরকারি গণগ্রন্থাগার, গ্যাস ফিল্ড কার্যালয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আল-মামুন সরকারের কার্যালয়, তাঁর নিজের ও শশুর বাড়ি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা চৌধুরী আফজাল হোসেন নেসারের বাড়ি, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আনার, জামাল খানের বাড়ি, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার কার্যালয়, ইউনির্ভাসিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মোকতাদির চৌধুরী মহিলা কলেজ, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিমা মুকাই আলীর বাড়ি, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, ছাত্রলীগ সভাপতি রুবেল হোসেনের বাড়ি, সাধারন সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন শোভনের বাড়ি, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ ভাষা চত্বরের উন্নয়ন মেলা, ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল স্কুল, চৌধুরী মঞ্জিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে।

police

৫. আশুগঞ্জ, সরাইলের একাধিক স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আশপাশের ড্রেন থেকে কংক্রিটের স্ল্যাব উঠিয়ে রেললাইনে এনে রাখা হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। স্টেশনের কাছের রেলগেটের ব্যারিয়ার বাঁকা করে ফেলা হয়। রেললাইন থেকে ক্লিপ খুলে ফেলা হয়। তালশহর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের মাঝখানে একটি সেতুতেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পৌর এলাকার মূল সড়কের অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে রাস্তা আটকে রাখা হয়।

৬. ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবেও হামলা করে কাচ ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার রিয়াজউদ্দিন জামি প্রেসক্লাবে ঢোকার সময় তাঁর ওপর হামলা করা হয়। তাঁর মাথায় ছয়টি সেলাই লেগেছে। এছাড়া একুশে টিভির জেলা প্রতিনিধি মীর মো. শাহীন, ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধি মাসুক হৃদয়, এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন সুমন রায়, আমাদের নতুন সময়ের জেলা প্রতিনিধি আবুল হাসনাত মো. রাফি, ডেইলি ট্রাইব্যুনালের জেলা প্রতিনিধি ইফতেয়ার উদ্দিন রিফাত, লাখো কণ্ঠের মো. বাহাদুর আলম হামলার শিকার হন।

৭. সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) এ অ্যাম্বুল্যান্স, সংবাদমাধ্যমের গাড়িসহ অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।দুটি ট্রাক, একটি মাইক্রোবাস ও দুটি মিনিবাসে আগুন দেওয়া হয়।

৮. মুন্সীগঞ্জে সাতটি বাড়ি ভাঙচুর ও চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।

৯. রাজশাহীতে সকালে নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় ট্রাক টার্মিনালের ভেতরে রাখা দুটি বিআরটিসি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

১০. কিশোরগঞ্জ- দুপুরের দিকে শহীদী মসজিদের সমানে থেকে হেফাজতের কর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে শহর প্রদক্ষিণের সময় হঠাৎ লাঠিসোঁটা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালান। তাঁরা কার্যালয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন। কার্যালয়ের আসবাব ভাঙচুর করা হয়। মারধর করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বকুলসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে।

101

ছবিঃ ফেসবুক

১১. চট্টগ্রাম-  কর্মসূচি শুরুর আগে শনিবার রাতে হাটহাজারী বড় মাদরাসার বিপরীতে উপজেলা ডাকবাংলোয় আগুন দিয়েছেন হেফাজত নেতাকর্মীরা। পুলিশ জানায়, আগুনে দুটি মোটরসাইকেল পুড়ে যাওয়াসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

১২. নোয়াখালী- হেফাজতের হরতালের মিছিল থেকে চৌমুহনী চৌরাস্তায় নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয় ও দোকানপাটে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় একাত্তর টিভি ও জাগো নিউজের নোয়াখালী প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, বাংলা টিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি ইয়াকুব নবী ইমনসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত হন। ভাঙ্চুর করা হয় নিউজ২৪ সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের গাড়ী। বেধড়ক পিটিয়ে কালেমা পড়ানো গণমাধ্যম কর্মীকে।

এছাড়াও আছে আরো নানা তান্ডবের কাহিনী। এসব কোন বানানো তথ্য নয়, বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ কর্মী ও পুলিশের সরেজমিনে এবং গ্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সারাংশ।

তথ্য সূত্রঃ কালেরকন্ঠ, জনকন্ঠ,দেশরুপান্তর।