ডাকত তুলে হাত–
খাইয়া যা না ছ্যামড়ারা সব
এক থালি দুধভাত!
ছুটির ঘণ্টা শেষে–
আমরা ফিরি যে যার বাসায়
কড়াই নদী ঘেঁষে।
নদীর পাশেই বাড়ি–
দেখতে পেতাম উঠান জুড়ে
মাটির চুলায় হাঁড়ি।
বন্ধু রহিম আমার–
বগল জুড়ে সেলাই–বোতাম
একটাও নেই জামার!
হাতের মুঠোয় হুঁকো–
বলত দেখে বাপ রহিমের,
ঘরের ভিতর ঢুকো…
রইদটা ক্যামন জানি–
ঘরের ভিতর যাও জিরায়া
একটু খায়া পানি!
আর রহিমের মাও–
বলত, বাবা একটু বসো…
একটা কিছু খাও!
ওর বাবা ভাগচাষি–
ভীষণ অভাব ঘরে, তবু
মুখটা হাসি হাসি।
এক-আধ পেটা খাওয়া–
তবুও যেন বইত ঘরে
তেপান্তরের হাওয়া!
আদর-ভালোবাসায়–
কাটত সময় সবচে সুখের
ওদের মাটির বাসায়।
…..
হিসেব করা সব দাওয়াতই
এখন টেক-এন্ড-গিভে,
সে দুধভাতের পবিত্র স্বাদ
পাই নি তো আর জিভে!
দেশবিদেশে খেলাম কত
মাখন, ছানা, ননী–
আমার দেখায় রহিম ছিল
সবচে বড় ধনী!
যাদের বুকের দরজাগুলো
নীল আকাশের মতো,
এই পৃথিবী বাঁচিয়ে রাখে
ওরাই অবিরত!








