দাঁত ব্রাশ করার পরেও অনেকেরই মুখে দুর্গন্ধ হয়।মুখের দুর্গন্ধ নিজেকে ও নিকটবর্তী সবাইকে বিব্রত অবস্থায় ফেলতে পারে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সচেষ্ট থাকতে হবে।

নিয়মিত, পরিমিত ও পর্যাপ্ত দাঁতের পরিচর্যা, দাঁতব্রাশ ও চেকআপ – বেশীরভাগ সময়ই রোগীকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে আজকের তথ্যবহুল লেখা ও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ দন্ত চিকিৎসক ডাঃ তারান্নুম অরেলিয়া চৌধুরী, শিকদার ডেন্টাল ক্লিনিক, উত্তরা, ঢাকা।

দুর্গন্ধ কেন হয় ?

• দাঁতের ফাঁকে ও মুখের ভিতরে খাদ্যকণা জমে থাকলে,
• অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত দাঁতব্রাশ।
• অনিয়মিত লাইফস্টাইল।

সর্বোপরি অবহেলা ও অসচেতনতাই মুখের দুর্গন্ধের প্রধান কারন

• মাড়ির প্রদাহ (পেরিওডেন্টাল ডিজিজ) – থেকে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।
• মুখের ভেতর ছত্রাক ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন (ক্যানডেডোসিস),
• মুখের ক্ষত থেকে দুর্গন্ধ হতে পারে।
• মুখের যে কোনো ধরনের ঘা বা ক্ষত ( সিস্ট, টিউমার, ক্যান্সার )

অন্যান্য রোগের কারণেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। যেমন-

• পেপটিক আলসার ও পরিপাকতন্ত্রের রোগ,
• কিডনি রোগ,
• লিভারের রোগ,
• গলা বা পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগ,
• হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ,
• গর্ভাবস্থা,
• ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ,
• নাক, কান,গলার রোগ ইত্যাদি।
• ধুমপান।

** ধূমপানসহ বিভিন্ন কারণে ( ডায়াবেটিকসসহ বিভিন্ন রোগ) মুখের ভেতর শুকিয়ে যায় ও মুখের মধ্যে জন্মানো জীবাণুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ফলে মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।

** ধূমপান ও অনেক রোগের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ও মুখের ক্ষত বা ঘা শুকাতে সময় নেয়। ফলে মুখে মারাত্মক দুর্গন্ধ হয়।

মুখে দুর্গন্ধ হলে করণীয়

নিয়মিত পর্যাপ্ত ও সঠিকভাবে দাঁতব্রাশ এর বিকল্প নেই। অনেকসময় দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা জমে থাকে, যা সাধারণতঃ ব্রাশ করলেও যায় না। ফলে মুখে বাজে গন্ধ হতে পারে। তাই নিয়মিত
✓ ফ্লসিং করা যেতে পারে।
✓ দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন
✓ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন
✓ জিহ্বা ব্রাশ করুন
✓ কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলি করা।
✓ মাউথওয়াশ ব্যবহার করা ( চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
✓ ধুমপান পরিহার করুন
✓ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করানো।

মুখে দুর্গন্ধ বিভিন্ন কারনে হতে পারে। তাই উপরোক্ত পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান না হলে অবশ্যই একজন ভাল দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডাঃ তারান্নুম অরেলিয়া চৌধুরী, শিকদার ডেন্টাল ক্লিনিক, উওরা।