দাঁত ও মাড়ির যত্ন নেয়ার জন্য দিনে দুই বেলা ব্রাশ করার কথা আমরা সবসময়ই শুনে আসছি। নিয়ম মেনে চলতে পারলে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারলে, দাঁত এবং মাড়ি দুটোই হবে শক্ত এবং মজবুত।
অনেকেই রোজ মাউথওয়াশ ব্যবহার করছেন। যদি দাঁতে বা মাড়িতে শিরশির করা, ডিসকমফোর্ট, রক্ত পড়া বা মুখে দুর্গন্ধের মতো সমস্যা হয়, তা হলে একজন অভিজ্ঞ ডেন্টিষ্ট দেখিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
মাউথওয়াশ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম নিয়ে বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞ ডেন্টিষ্ট ডাঃ তারান্নুম অরেলিয়া চৌধুরী
** তেমন কোনও প্রয়োজন না থাকলে বিজ্ঞাপনী প্রচারে মুগ্ধ হয়ে, ঝকঝকে সাদা দাঁতের মালিক হওয়ার জন্য রোজ মাউথওয়াশ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় নয়।
** সাধারনতঃ ডেন্টিষ্টরা দাঁত ব্রাশ করার পরপরই মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে নিষেধ করেন।
মাড়ির রোগে যে মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে :
মাড়ির রোগে মাড়িতে ব্যথা, ক্ষত, ফোলা ও পুঁজ হতে পারে। দাঁত ব্রাশের পর মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এসময় একটি এন্টিসেপ্টিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। অধিকাংশ মাউথওয়াশে অল্প মাত্রায় এন্টিসেপ্টিক ইনগ্রেডিয়েন্ট থাকে।
••••
দাঁতের চিকিৎসকেরা তীব্র মাড়ির রোগে বেশিরভাগ সময় ক্লোরহেক্সিডাইন ০.২% রয়েছে এমন মাউথওয়াশ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয় যা মুখের ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণ উভয়ক্ষেত্রে কার্যকর।
•••••
মাউথওয়াশের অন্যান্য এন্টিসেপ্টিক ইনগ্রেডিয়েন্ট হলো সিটাইলপাইরিডিনিয়াম ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, যা মৃদু মাড়ির রোগ প্রতিরোধে ও চিকিৎসায় সহায়তা করে।
••••••
প্লাক প্রতিরোধে যে মাউথওয়াশ ব্যবহার করবেন:
দাঁতের পৃষ্ঠের ওপর যে সাদা ও হলুদ আবরণ দেখা যায় তাকে প্লাক বলে। দাঁতের প্লাকে ব্যাকটেরিয়া থাকে যা দাঁতকে ক্ষয় করে দিতে পারে ও মাড়িতে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি ভালোভাবে মেনে চলে প্লাক দূর করতে হবে। নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহারে প্লেকের গঠন প্রতিরোধ হতে পারে ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে। জিংক ক্লোরাইড, ট্রাইক্লোসান ও সিটাইলপাইরিডিনিয়াম ক্লোরাইড রয়েছে এমন মাউথওয়াশ ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম ও প্লাক গঠন কমাতে পারে।
••••••••
প্লাক কমাতে থাইমল, ইউক্যালিপটল ও মেনথলের মতো এসেনশিয়াল অয়েলও কার্যকর। এসব এসেনশিয়াল অয়েল প্লাকের ভেতর ঢুকে কাজ করে। একারণে অধিকাংশ মাউথওয়াশে এসেনশিয়াল অয়েল অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
•••••••
দাঁত সাদা করতে যে মাউথওয়াশ ব্যবহার করবেন:
যেসব মাউথওয়াশ দাঁতকে সাদা করতে পারে বলে দাবি করা হয় তাতে প্রায়ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও সোডিয়াম ফ্লুরাইড থাকে। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দাঁতের দাগ দূর করতে ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দাগ দূর করে ফেলে বলে দাঁতকে সাদা ও উজ্জ্বল দেখায়। দাঁত সাদাকরণ টুথপেস্টের পাশাপাশি দাঁত সাদাকরণ মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে দাঁত আরো সাদা ও উজ্জ্বল হবে।
••••••
ফ্লুরাইড মাউথওয়াশ ব্যবহারের পর কমপক্ষে ৩০ মিনিটের মধ্যে কিছু খাবেন না বা পান করবেন না। ব্যবহারের আধঘণ্টার মধ্যে কিছু খাওয়া উচিত নয়। খাবার খাওয়া বা পানি পানের ৩০ মিনিটের মধ্যে ফ্লোরাইডযুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা উচিত নয়।
সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়- ডাঃ তারান্নুম অরেলিয়া চৌধুরী,শিকদার ডেন্টাল ক্লিনিক, উওরা।
বাড়ী ৫, রোড ১৬, সেক্টর ৬, রাজউক কলেজের পেছনে, উওরা, ঢাকা। হেল্প লাইন: 01977350290










