পবিত্র মাহে রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। চিন্তার কারণ -” রোজা ভেঙ্গে যাবে “
আসলে কি তাই? রোজা রেখে দাঁতের চিকিৎসা করাতে গেলে কি রোজা নষ্ট হয়? এই প্রশ্নের উত্তর বিস্তারীত আলোচনা করেছেন রাজধানীর উত্তরার জনপ্রিয় ডেণ্টাল ক্লিনিক ‘শিকদার ডেন্টাল কেয়ার’র অভিজ্ঞ ডাক্তার ডাঃ তারান্নুম অরেলিয়া চৌধুরী।
-সাধারণ ও স্বাভাবিক ধারনা-
- দাঁত তোলার কথাই ধরা যাক। দাঁত তোলার পর কিছুটা রক্তপাত হতে পারে। মুখের ভেতরের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু রক্তপাত স্বাভাবিক।
- দাঁতের মাড়ির চিকিৎসার সময় সামান্য রক্তপাত হতে পারে মাড়ি থেকে।
- দাঁতে, দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে জমে থাকা পাথর বা ক্যালকুলাস পরিষ্কারের জন্য যখন স্কেলিং করা হয়, তখন রক্তপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
- মাড়ি প্রদাহের ক্ষেত্রে মাড়ির ভেতরের অংশ পরিষ্কার করার সময়ও রক্ত বের হতে পারে।
কিন্তু রোজা রাখা অবস্থায় যদি দাঁতের চিকিৎসা করতে গিয়ে রক্ত বের হয়, তা হলে কি রোজা ভেঙে যাবে?
দাঁতের যেকোনো (দাঁত তোলা, মুখের ভেতরের চিকিৎসা, রুট ক্যানাল ও অন্যান্য) চিকিৎসার সময় অবশকারক ইঞ্জেকশন (লোকাল অ্যানাস্থেসিয়া) দিতে হয়।
যদিও দাঁতের চিকিৎসার সময় অ্যানাস্থেসিয়া (অবশকারক) ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে রোগী তার শরীরে কোনো পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করছেন না।
স্কেলিং বা পলিশিং করার সময়, ফিলিং করার জন্য দাঁতে গর্ত তৈরি করা বা দাঁত কাটার সময়, অথবা দাঁতের অন্যান্য চিকিৎসার সময় যে মেশিন ব্যবহার করা হয় তা থেকে পানি বেরিয়ে এসে দাঁত শীতল রাখতে সাহায্য করে।
রোজা থাকা অবস্থায় এ পানি বেরিয়ে এসে যদি গলায় ঢুকে যায়, তা হলে রোজা ভেঙে যাওয়ার কথা ভেবে অনেকেই শঙ্কিত থাকেন।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে,এ জাতীয় চিকিৎসার সময় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সাকশান মেশিন ব্যবহার করা হয়, যা মুখের ভেতরের পানি এবং পানি মেশানো থুতু নিমেষেই শোষণ করে নেয়৷ফলে গলায় পানি ঢোকার আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
রোজা রেখে দাঁত ব্রাশ করলে, ফ্লসিং করলে (সুতা ব্যবহার) দাঁতের ফাঁকা স্থান পরিষ্কার করলে রোজা হালকা হয়ে যায়, বলে কেউ কেউ মনে করেন।কিন্তু এটিও ভুল ধারণা।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, রোজা রাখা অবস্থায় দাঁত মাজলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না । তবে খেয়াল রাখতে হবে, দাঁত ব্রাশের সময় টুথপেস্ট যেন গলা, পাকস্থলীতে ঢুকে না যায়। যদি অনিচ্ছাবশত টুথপেস্ট গলা / পাকস্থলীতে ঢুকে যায়, রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে –
যদি চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ করার সুযোগ থাকে, সাময়িক বন্ধ রাখা যেতে পারে।(রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা)।
যদি কোন সুযোগ না থাকে, চিকিৎসা শুরু করুন। রোজা ভঙ্গের কারণগুলোর মধ্যে চিকিৎসা পড়ে না বলেই অনেক ইসলামী-বিদদের মত।
যদিও দাঁতের চিকিৎসার সময় অ্যানাস্থেসিয়া (অবশকারক) ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে রোগী তার শরীরে কোনো পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করছেন না।
তবে, সন্দেহ থাকলে, কাজার বিধান রয়েছে। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, অসুস্থতায়। রোগীর জন্য রমজানের বিধান, মেনে চলা যেতে পারে।
” সময়মতো ও নিয়মিত দাঁতের চিকিৎসা সেবা নিন,
অনাকাঙ্ক্ষিত দাঁতের ব্যাথা ও অসুস্থতা – এড়িয়ে চলুন। “
দাঁতের মানসম্পন্ন ও সঠিক চিকিৎসা জন্য যোগাযোগ করতে পারেন-
“শিকদার ডেন্টাল ক্লিনিক”
বাড়ী ৫, রোড ১৬, সেক্টর ৬,
রাজউক কলেজের পেছনে,
উওরা, ঢাকা। হেল্প লাইন: 01977350290







