ঈদের বাকি আর মাত্র দুই দিন। এ অবস্থায় পথে পথে ভোগান্তি ও দফায় দফায় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই পথে পথে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। সব বাস টার্মিনাল ও প্রধান প্রধান সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে লোকজন বৃষ্টিতে ভিজে ও যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছে। এরইমধ্যে মঙ্গলবার সকালের দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি মাইক্রোবাস যাত্রীসহ পল্টন থেকে নদীতে পড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় শিমুলিয়া- বাংলাবাজার, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট ফেরিঘাটে মানুষের চাপ বেড়েছে। ব্যক্তিগত ও ভাড়া করা গাড়ি এবং পণ্যবাহী যানবাহন এ হাজার হাজার মানুষ ফেরিঘাটে জড়ো হচ্ছে।
রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে সোমবার থেকে মানুষের ভিড় বেড়েছে। দূরপাল্লার বাস চলাচল না করলেও যাত্রীরা যানবাহন পাওয়ার আশায় এসব বাস টার্মিনালের সামনে ভিড় করছেন। এসব জায়গা থেকে অনেকেই মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ভাড়া করে বাড়ির পথে চলছেন। বাস টার্মিনাল ছাড়া রাজধানীর চারটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে ও শত শত মানুষের ভিড় রয়েছে।
এসব এলাকা থেকে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় পণ্যবাহী ট্রাক, মিনিবাস ও পিকআপ ভ্যানে ভেঙে ভেঙে বাড়ি ফিরতে রওনা হয়েছে। রাজধানীর গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুরে সারারাত ধরে যাত্রীরা যানবাহন পেতে অপেক্ষা করছে। যে যেভাবে পারছে সেভাবেই চড়া ভাড়া দিয়ে যানবাহনে উঠে পড়ছে। যারা পারছেস না তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকছেন।
মঙ্গলবার ভোর রাতে এবং সকালে কয়েক দফায় বৃষ্টি হলেও ঘরমুখো সব মানুষকে বাড়ি ফিরতে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। সকালের দিকে হাজার হাজার মানুষকে পায়ে হেঁটে গাবতলী ব্রিজ পার হয়ে আমিন বাজারের দিকে ছুড়তে দেখা যায়। আজ রাজধানীর কোথাও পুলিশের চেকপোস্টে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের তেমন তৎপরতা ছিলো না। এর ফলে অনেক মাইক্রোবাস যাত্রী নিয়েই আমিন বাজার ব্রিজ পার হয়েছে। আব্দুল্লাহপুর এলাকাতেও একইভাবে যাত্রী নিয়ে যানবাহন ঢাকা ছেড়েছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর বাইরে জয়দেবপুর চৌরাস্তা এলাকায় উভয় দিকেই প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘরমুখো মানুষকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সকালের বৃষ্টি উপেক্ষা করেও তারা যানবাহনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এখান থেকে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের পাশাপাশি বিভিন্ন রুটের কিছু দূরপাল্লার বাস যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে বলেও জানা গেছে। আশুলিয়া সড়কেও এখন ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। গাজীপুর ও আশুলিয়ায় এলাকায় অনেক শিল্প কারখানা ছুটি হয়ে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান শ্রমিকরা এখন বাড়ি ফিরতে মরিয়া। তারা পণ্যবাহী ট্রাকে রওনা হচ্ছে।
শিমুলিয়া ফেরিঘাটে গত শুক্রবার থেকে মানুষের যে ঢল নেমেছিল আজ মঙ্গলবারও তা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাত থেকে এই ঘাটে চৌদ্দটি ফেরি যাত্রী ও জরুরি যানবাহন পারাপারের নিয়োজিত রয়েছে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলেও ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি মোটেও কমেনি। সোমবার রাত থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কয়েক দফায় বৃষ্টির কারণে ফেরিঘাটে অপেক্ষামান হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। পথের কষ্ট ও বৃষ্টি উপেক্ষা করেই লোকজনকে ফেরির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ফেরি ঘাটে এসে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরম ঝুঁকি নিয়েই তারা হুড়োহুড়ি করে ফেরিতে উঠছে। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ফেরিতে ওঠায় ফেরিগুলোকে অনেক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
একই অবস্থা পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার খবর পেয়ে সোমবার থেকেই এই ঘাটে মানুষ ও যানবাহনের ব্যাপক চাপ বেড়েছে। শেষ মুহূর্তে হলেও ঈদের আগে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ এই ঘাট পার হয়ে বাড়ি ফেরার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটে তেরোটি ফেরি চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফেরি চলাচলে যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। সকালের দিকে বৃষ্টি হওয়ায় নারী শিশুসহ ফেরিতে ওঠা বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এখান থেকে দৌলোদিয়া ও রাজবাড়ী নৌরুটে ফেরি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
কিন্তু সকালের দিকে একটি মাইক্রোবাস দৌলোদিয়ার পল্টন থেকে যাত্রীসহ নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ ভোরের কাগজ







