বরিশালের মুলাদীতে প্রকাশ্যে শিক্ষককে মারধর ও প্রাণনাশের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার আল শহীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক মুলাদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক জাকির হোসেন মুলাদী উপজেলার আল শহীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অপরদিকে, অভিযুক্ত ফয়জুর রহমান টুলু সরদার সফিপুর গ্রামের মৃত ফজলুল রহমানের ছেলে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের মাঠে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিলো। এ সময় বেসরকারি সংস্থা সেইন্ট বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলোচনা হয়। আলোচনায় শিক্ষক জাকির হোসেন মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সেইন্ট বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন। কিন্তু স্থানীয় ফয়জুর রহমান টুলু তার আত্মীয় হিরা নামের একজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে বলে জানিয়ে দেন।

এ নিয়ে ফয়জুর রহমান টুলু এবং বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ফয়জুর রহমান জাকির হোসেনকে কিলঘুষি ও লোকজনের সামনে শিক্ষককে জুতাপেটা করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভুক্তভোগী শিক্ষক জাকির হোসেনকে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে ফয়জুর রহমান টুলুর বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ফয়জুর রহমান টুলু এলাকার প্রভাবশালী। এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে উঠাবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা করেন।

ফয়জুর রহমান টুলু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষক নিয়োগের বিষয় নিয়ে ওই শিক্ষকের সঙ্গে শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ.এম রাসেল বলেন, ফয়জুর রহমান টুলু শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেনকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে। এ ব্যাপারে আইনি সহায়তা পেতে জাকির হোসেনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

মুলাদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জাকিরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুলাদী থানার ওসি তুষার কুমার মণ্ডল বলেন, শিক্ষকের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক