ঢাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের কম্পাউন্ডে ভয়াবহ হত্যার শিকার হন ব্যবসায়ী চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগ। তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

রাস্তায় টেনে এনে লাশের ওপর বর্বরতা চালায় তারা। নিহত সোহাগের নিথর দেহ টেনে-হিঁচড়ে হাসপাতালের কম্পাউন্ডের বাইরে এনে শত শত মানুষের সামনে চলে উন্মত্ত উল্লাস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একাধিক যুবক মৃতদেহের ওপর দাঁড়িয়ে পিটাতে থাকে, কেউ কেউ লাফিয়ে আঘাত করে, মুখে ও বুকে কিল-ঘুষি চালায়।

ঢাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড

গ্রেপ্তার ও তদন্ত

ঢাকা মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন শিকদার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মহিন ও তারেক নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলহোতা মহিনসহ অন্যদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় হাসপাতাল চত্বরেই চিকিৎসা চলছিল এবং আনসার ক্যাম্পের সদস্যরাও সেখানে ছিলেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। আহত সোহাগকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন।

ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে খুন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় সোহানা মেটাল নামের একটি দোকানে ভাঙারি ও পুরোনো বৈদ্যুতিক কেবল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। ওই এলাকার কেবল বাণিজ্যে তার একক নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবে ওই নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিল মাহমুদুল হাসান মহিন ও সারোয়ার হোসেন টিটু। তারা ব্যবসার ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্ব অথবা নিয়মিত চাঁদা দাবি করেছিল। এই দ্বন্দ্ব থেকেই ঘটনার সূত্রপাত এবং দিন শেষে ঘটে রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত সোহাগ ও হামলাকারীরা পুরান ঢাকার ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে দলীয় কোনো পদে তারা রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলা ও অভিযুক্তরা

নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নাম উল্লেখ করা হয়েছে মাহমুদুল হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, ছোট মনির, লম্বা মনির, আলমগীর, নান্নু, সজীব, রিয়াদ, টিটন গাজী, রাকিব, সাবা করিম লাকী, স্বেচ্ছাসেবক কালু, রজব আলী পিন্টু, মো. সিরাজুল ইসলাম, রবিন, মিজান, অপু দাস, হিম্মত আলী ও আনিসুর রহমান হাওলাদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরান ঢাকা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন অপরাধে দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

সূত্রঃ জাগো নিউজ