নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ও তীব্র বিতর্কিত ঘটনা—বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে মৃত ব্যক্তিদের কবরের পাশ থেকে জোরপূর্বক বালু ও মাটি তুলে নিয়ে যাওয়ার।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ: কবর সংস্কারে ব্যবহৃত বালু নেওয়ায় হুমকি
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী জানান, তিনি পার্শ্ববর্তী নদী থেকে রাস্তার কাজের জন্য তোলা বালু থেকে সামান্য অংশ প্রয়াত বাবা-মায়ের কবর মেরামতে ব্যবহার করেন। এরপরই গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি আব্দুল আহাদ, সেক্রেটারি ফারুক আহমেদ, এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ফজলুল হক ও সেক্রেটারি আজিত মোল্লা তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন।
তাদের কথায়—
“আমাদের অনুমতি ছাড়া এক চিপা বালুও কবর বা বাইতুল্লাহ শরীফে দেওয়া যাবে না।”
পরদিন ভোরে কবরের পাশ থেকে বালু তুলে নিয়ে যাওয়া হয়
হুমকির পরদিনই ওইসব নেতার নেতৃত্বে একটি দল শ্রমিকসহ গাড়ি নিয়ে এসে কবরের পাশের সম্পূর্ণ বালু তুলে নিয়ে যায়। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
অভিযোগের তীরে যাঁরা
গ্রামবাসীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন নিম্নোক্ত বিএনপি নেতারা ও কর্মীরা:
-
আব্দুল আহাদ – ইউনিয়ন সভাপতি
-
ফারুক আহমেদ – ইউনিয়ন সেক্রেটারি
-
ফজলুল হক – ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি
-
আজিত মোল্লা – ৬ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি
-
সাইফুল ইসলাম, কালিকাবর
-
হেলাম, কালিকাবর
-
আব্দুল কুদ্দুস, পিতা ছামেদ আলি
-
আমান আলি
-
জুলকাশ, কান্দাপাড়া
-
মুঞ্জল, পিতা মৃত ছাবির উদ্দিন
-
মজিনুর, দুবরাজপুর
-
আ. সাত্তার, কান্দাপাড়া
-
আরও কয়েকজন ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি কর্মী
কবরস্থানেও দলীয় দখলের রাজনীতি!
এলাকাবাসীদের বক্তব্য— এই ঘটনা কেবল একটি কবরস্থান ঘিরে নয়, এটি রাজনৈতিক দখলদারিত্বের এক জঘন্য রূপ। তারা বলেন,
“কবরের মাটিও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমাদের সমাজ কোথায় যাচ্ছে?”
বিষয়টি ঘিরে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় কাজ করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে রাজনৈতিক পরিচয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ: তদন্ত ও শাস্তির দাবি
সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়—
“এই অমানবিক ঘটনা সমাজে এক বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে। আজ যদি প্রশাসন নীরব থাকে, তাহলে আগামী দিনে কবরস্থানেরও নিরাপত্তা থাকবে না।”
-নিউজ ডেস্ক







