আর্থ্রাইটিস এমন একটি রোগ যা মূলত হাড় ও সন্ধিকে (Joint) প্রভাবিত করে। এটি একক কোনো রোগ নয়, বরং প্রায় ১০০টিরও বেশি রোগ ও সমস্যার সমষ্টি।
এর মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis) সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বয়স, জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস, বংশগত কারণসহ নানা কারণে এই রোগ হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা গেলে আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আর্থ্রাইটিসের সাধারণ উপসর্গ
সন্ধি ব্যথা ও ফোলা
হঠাৎ করে বা ধীরে ধীরে ব্যথা শুরু হয়, যা সময়ের সাথে বাড়তে থাকে।
সকালে শক্ত হয়ে যাওয়া
বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর কয়েক মিনিট থেকে ঘণ্টা পর্যন্ত সন্ধিতে শক্তভাব অনুভূত হয়।
লালচে ভাব ও উষ্ণতা
আক্রান্ত স্থানে লালচে রঙ ও হালকা উষ্ণতা দেখা দিতে পারে।
হাঁটাচলায় সমস্যা
হাঁটু, কোমর বা গোড়ালির সন্ধি আক্রান্ত হলে চলাফেরা কঠিন হয়ে যায়।
ক্লান্তি ও দুর্বলতা
অনেক সময় সার্বিকভাবে শরীরে অবসাদ অনুভূত হয়।
চিকিৎসা পদ্ধতি
আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরণ ও তীব্রতার ওপর।
- ঔষধ সেবন
- ব্যথানাশক ওষুধ (Painkillers)
- প্রদাহনাশক ওষুধ (NSAIDs)
- কর্টিকোস্টেরয়েড
- DMARDs (Disease Modifying Anti-Rheumatic Drugs) – বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের জন্য
ফিজিওথেরাপি
নিয়মিত ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি পেশিকে মজবুত করে এবং ব্যথা কমায়।
সার্জারি
অনেক সময় জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট (Joint Replacement Surgery) প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিকার ও জীবনধারার পরিবর্তন
সঠিক ওজন বজায় রাখা – অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টে চাপ ফেলে ব্যথা বাড়ায়।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম – যেমন হাঁটা, সাঁতার বা যোগব্যায়াম।
সুষম খাদ্যাভ্যাস
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাবার (দুধ, মাছ, ডিম, বাদাম)।
প্রদাহ কমায় এমন খাবার (ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডযুক্ত মাছ, অলিভ অয়েল, শাকসবজি)।
লাল মাংস, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম – জয়েন্টে অযথা চাপ না দেওয়া।
গরম বা ঠান্ডা সেঁক – ব্যথা ও ফোলা কমাতে সাহায্য করে।
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট – ধ্যান, মেডিটেশন বা হালকা বিনোদন মানসিক স্বস্তি দেয়।
প্রতিরোধের উপায়
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
ছোটখাটো ব্যথাকে অবহেলা না করে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা।
সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলা।
সংক্ষেপে বলা যায়, আর্থ্রাইটিস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক চিকিৎসা, ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।







