কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৩ মেয়ের পর দীর্ঘ ১৬ বছরের আকুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির কোলজুড়ে এসেছিল একমাত্র পুত্রসন্তান সাজিদ আল নাহিয়ান। কিন্তু সেই সীমাহীন আনন্দ মাত্র ৭ মাসেই বিষাদে পরিণত হলো।
রোববার (১৭ মে ২০২৬) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ফুটফুটে শিশু সাজিদ।
সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত না হওয়া এবং উন্নত চিকিৎসার খোঁজে কুমিল্লা, ফেনী ও ঢাকার মোট ৭টি হাসপাতাল ঘুরেও শেষ রক্ষা হলো না একমাত্র ছেলের।
১৪ এপ্রিল থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল প্রথম সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয় সাজিদ। তখন চৌদ্দগ্রাম বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর পর সে কিছুটা সুস্থ হয়। তবে এক মাস পর গত ১২ মে আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শিশুটিকে ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়: ১. চৌদ্দগ্রাম বাজারের প্রাইভেট হাসপাতাল ২. চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩. ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল ৪. ঢাকা শিশু হাসপাতাল ৫. ঢাকা ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতাল ৬. তেজগাঁও ইমপালস হাসপাতাল (সর্বশেষ)
ইমপালস হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন যে সাজিদ হামে (Measles) আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে আইসিইউ-তে (ICU) স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।
“কার কাছে অভিযোগ জানাব?” — শোকাচ্ছন্ন বাবার আর্তনাদ
সন্তান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া বাবা পারভেজ আহমেদ সুমন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন:
“১৬ বছর পর ছেলে হওয়ায় আমাদের আনন্দ ছিল সীমাহীন। কিন্তু ৭টি হাসপাতাল ঘুরেও আদরের মানিককে বাঁচাতে পারলাম না। এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এখনও অনেক ত্রুটি রয়েছে। ছেলে যে হামে আক্রান্ত, সেটাই চিহ্নিত করতে চিকিৎসকদের অনেক দেরি হয়ে গেছে! এখন কার কাছে অভিযোগ জানাব? সবই ভাগ্য। গ্রামের বাড়ির কবরস্থানেই সন্তানকে দাফন করব।”
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল জানান, সাজিদ হামের উপসর্গ নিয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অবস্থার অবনতি দেখে তারা দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সূত্র: সমকাল










