বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। শুক্রবার রাত ১২টা পর থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন দাম। ফলে শনিবার সকালেই দেখা গেছে এর প্রভাব। কর্মজীবীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরিবহনের জন্য। তবে বাস এলেও আগে থেকেই যাত্রী পূর্ণ থাকায় তাতে উঠতে পারছেন না অনেকে। কোনো গতি না দেখে পায়ে হেঁটে সামনে এগুচ্ছেন।
এদিকে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে মালিকরা। আজ শনিবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাথে বৈঠকে বসবেন তারা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা থেকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। এতে বাস পরিচালনার ব্যয় বেড়ে গেছে। তাই বাস ভাড়া সমন্বয় করা জরুরি। এ ব্যাপারে আজ বিকেলে বিআরটিএ’র সাথে বৈঠক করা হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার সকালে রাজধানীর জুরাইন, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, কাজলা, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, মগবাজার ও মহাখালীতে এই চিত্র দেখা যায়।
বাসের চালক ও সহকারীরা বলছেন, শুক্রবার রাতে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছেন না পরিবহন মালিকরা। তারা পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।
এদিকে ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা বলছেন, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে কোনো আলাপ না করেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মনে হচ্ছে। সেজন্য ভাড়া বাড়ানোয় মালিকরা এভাবে পরিবহন সঙ্কট তৈরি করেছেন। এতে জনসাধারণই ভুগছেন। অথচ আগে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে দাম বাড়ালে হয়তো আজকের এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
জ্বালানির এ দাম বাড়ানোয় শুধু গণপরিবহন খাতে নয়, পণ্যপরিবহনেও ভাড়া বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে। সমন্বয়হীনতার কারণে এসব ক্ষেত্রেও নজিরবিহীন সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেণ তারা।
গতকাল রাত ১০টায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে লিটারপ্রতি ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে শনিবার থেকে লিটার প্রতি ডিজেল ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বেড়ে ১১৪ টাকা, কেরোসিন ৩৪ টাকা বেড়ে ১১৪ টাকা, অকটেন ৪৬ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোল ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হবে।










